পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: গত বছর ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে ১১ জনের মৃত্যু হয়। তবে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ-র চার্জশিটে উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীদের দাবি, লালকেল্লা নয়, বরং ওই এলাকারই একটি জৈন মন্দির ‘লাল মন্দির’ ছিল হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য। কিন্তু রাস্তায় যানজট এবং পুলিশের কড়া প্রহরার কারণে শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনা বদলে লালকেল্লাকে নিশানা করে মূল অভিযুক্ত চিকিৎসক উমর উন নবি।

গত ১৪ মে দিল্লির আদালতে এই ঘটনার ৭,৫০০ পাতার বিস্তারিত চার্জশিট জমা দেয় এনআইএ। গত ২৯ আগস্ট আদালতে তা নিয়ে আলোচনা হয়। চার্জশিটে জানানো হয়েছে, হরিয়ানার নুহ এলাকায় একটি ঘর ভাড়া নিয়ে টানা ১১ দিন লুকিয়ে ছিল উমর। সেখানেই সে নিজের প্রস্রাব থেকে ইউরিয়া সংগ্রহ করে প্রাণঘাতী ওই বিস্ফোরক তৈরি করে।

এনআইএ-র গোয়েন্দারা একটি পেনড্রাইভ উদ্ধার করেছেন, যার মধ্যে থাকা পিডিএফ ফাইলে প্রস্রাব থেকে ইউরিয়া আলাদা করে বোমা বানানোর পদ্ধতি স্পষ্টভাবে লেখা ছিল।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, নুহ-র ওই ভাড়াবাড়িতে প্রস্রাব ভর্তি অসংখ্য পলিথিনের ব্যাগ মজুত থাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াত। এমনকি এই দুর্গন্ধ নিয়ে উমরের বন্ধু শোয়েবের কাছে অভিযোগও জানিয়েছিলেন প্রতিবেশীরা। শেষ পর্যন্ত সমস্ত ছক কষে ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণ ঘটায় উমর, যার জেরে ১১ জনের মৃত্যু ছাড়াও বহু মানুষ গুরুতর জখম হন।