পুবের কলম প্রতিবেদক, লালগোলা: গত বছরের ভয়াবহ ভাঙনের স্মৃতি উসকে আবারও নতুন করে ভাঙন শুরু হল লালগোলার থানার তারানগর গ্রামে। ৯ সেপ্টেম্বর বুধবার সকাল দশটায় শুরু হওয়া মাত্র এক ঘন্টার এই ভাঙনে বেশ কয়েক বিঘা সবজি ও ফসলের জমি তলিয়ে গেল পদ্মা গর্ভে। নদী তীরবর্তী শতাধিক পরিবার বাড়িঘর হারানোর ভয়ে নতুন করে ঘরের আসবাবপত্র সরিয়ে নিল। নিকট থেকে দূরের আত্মীয় পরিজনসহ আশেপাশের গ্রামগুলি থেকে আগত জনস্রোত তারানগরের দিকে। সবার চোখে মুখেও ভীতি উদ্বেগ আর আতংক।
এক করুন ছবি দিনভর দেখা গেল গ্রাম জুড়ে।আরও পড়ুন:
উল্লেখ, গত বছরের ভয়াবহ ভাঙনের গ্রামের অন্ততঃ ১৫০ টি পরিবার বাড়িঘর হারিয়ে আজও আশেপাশে ত্রিপলের নিচে কিংবা কোন আশ্রয় কেন্দ্রে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। নদীর পানি বৃদ্ধি ও প্রবল স্রোত মানুষকে ক'দিন থেকেই আতঙ্কিত করে রেখেছিল। অবশেষে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদ্মা আবারও থাবা বসালো তারানগরের মাটিতে। ভাঙ্গনের জন্য নিম্নমানের কাজই দায়ী বলে গ্রামবাসীদের অভিযোগ।
উল্লেখযোগ্য, গত বছর সরকার নদী ভাঙন রোধে এখানে সাত কোটি বাহান্ন লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছিল। নদীর পাড়ে বালির বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, নিম্নমানের কাজ হয়েছে এখানে। টাকা নয়-ছয় হয়েছে। দুর্নীতির সঙ্গে গ্রামের একটি ক্ষুদ্র প্রভাবশালী গোষ্ঠী জড়িত বলে তাদের আরও অভিযোগ।আরও পড়ুন:
ভাঙনের খবর শুনে ছুটে আসেন লালগোলা থানার বিডিও অভিষেক বিশ্বাস, এসডিপিও বিমান হালদার, থানার বড়বাবু অমিত ভকত, স্থানীয় বিএসএফ ক্যাম্পের কমান্ডারসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তাৎক্ষণিক ভাঙন রোধে মাটির বস্তাও ফেলা হয়। গ্রামবাসীরা এ কাজে সন্তুষ্ট নন। তারা দাবি করেন, শুকনো মৌসুমে সঠিক সময়ে, সঠিক কাজ না হওয়ায় আজ আমাদের সর্বহারা হতে হচ্ছে। আগামীতে কাজ হলে দুর্নীতি হতে দেওয়া হবে না বলে বিডিও গ্রামবাসীদের আস্বস্ত করেন।