পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: পঞ্জাবে মাদকের কারবার প্রতিরোধে রাজ্য সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় ৫০ বছর বয়সী এক প্রৌঢ়ের বিষপানে আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আম আদমি পার্টি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন কংগ্রেস সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধী। নিগৃহীত ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাকে পঞ্জাব সরকারের "বিপজ্জনক প্রবণতা" বলে আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেই হুমকি ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
ঘটনাটি পঞ্জাবের সাঙ্গরুর জেলার। নিহত ব্যক্তির নাম গুলজার সিং। পঞ্জাবের অর্থমন্ত্রী হরপাল সিং চিমার কাছে রাজ্যে মাদকের রমরমা নিয়ে প্রশ্ন করায় পুলিশের চাপে পড়ে তিনি বিষপান করেন বলে অভিযোগ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করে রাহুল গান্ধী লেখেন, দলিত সম্প্রদায়ভুক্ত গুলজার সিং তাঁর নিজের ছেলেকে মাদকের গ্রাসে হারিয়ে যেতে দেখেছিলেন। সেই কারণেই তিনি রাজ্যের অর্থমন্ত্রীর কাছে সাধারণ একটি প্রশ্ন করেছিলেন যে, মাদকের কারবার বন্ধে সরকার কেন এভাবে ব্যর্থ হচ্ছে? রাহুল গান্ধী জানান, "শুধু এইটুকুই অপরাধ ছিল তাঁর! এর জন্য তাঁকে এতটাই শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং ক্ষমা চাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় যে তিনি বিষ খেতে বাধ্য হন। সঠিক চিকিৎসার অভাবে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরে অবশেষে তিনি জীবনের লড়াইয়ে হেরে যান।" বিরোধী দলনেতার বক্তব্য, দিনকয়েক আগেই মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান-এর এক অনুষ্ঠানে কালো পতাকা দেখিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় মোহনজিৎ সিং নামের এক যুবককেও পুলিশি নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল।
রাহুল গান্ধী পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের কাছে অবিলম্বে রাজ্য অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। পাশাপাশি এফআইআর-এ অর্থমন্ত্রীর নাম অন্তর্ভুক্ত করে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার আর্জি জানিয়েছেন। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে হতে যাওয়া বিধানসভা নির্বাচনে পঞ্জাবের মানুষ ভোট দিয়ে আপ সরকারকে প্রত্যাখ্যান করবে বলেও দাবি করেছে কংগ্রেস। সরকারি এই পরিসংখ্যানই স্পষ্ট করে দিচ্ছে, পঞ্জাবে মাদক সমস্যা কতটা সংকটজনক রূপ নিয়েছে। কংগ্রেসের মতে, সরকার সমস্যার সমাধান না করে প্রশ্নকর্তাদের কণ্ঠরোধ করতে ব্যস্ত।