পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: আগামী ১২ এবং ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত হতে চলেছে ১৮তম ব্রিক্স শীর্ষ সম্মেলন। এই সম্মেলনে যোগ দিতে প্রায় সাত বছর পর ভারতে আসছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আগামী শনিবার প্রায় ৪০০ জনের প্রতিনিধিদল নিয়ে তাঁর পৌঁছনোর কথা রয়েছে। একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্মেলনের প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে। যদিও সরকারিভাবে এখনও এই বিষয়ে কিছু ঘোষণা করা হয়নি।
ইতিমধ্যেই চিনা দূতাবাসের আধিকারিকরা জিনপিঙের নিরাপত্তা ও প্রোটোকল চূড়ান্ত করার কাজ শুরু করে দিয়েছেন।আরও পড়ুন:
২০১৯ সালের অক্টোবরে শেষবার ভারতে এসেছিলেন চিনা প্রেসিডেন্ট। এরপর ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় চিনা ফৌজের সঙ্গে ভারতীয় সেনার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জেরে দুই দেশের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। ওই ঘটনায় ২০ জন ভারতীয় জওয়ান শহিদ হন। পরবর্তী সময়ে 'অপারেশন সিঁদুর' ও ভারত-পাক দ্বন্দ্বেও চিন প্রকাশ্যে পাকিস্তানের পক্ষ নেয়।
তবে ২০২৪ সালে রাশিয়ার কাজ়ানে এবং ২০২৫ সালের অগস্টে চিনের তিয়ানজ়িনে শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) বৈঠকের ফাঁকে মোদী ও জিনপিঙের আলোচনার পর সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গিত মেলে। কূটনীতিকদের মতে, জিনপিঙের এবারের ভারত সফরে নয়াদিল্লি ও বেজিংয়ের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হতে পারে।আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, ব্রিক্স সম্মেলন শুরুর এক দিন আগে শুক্রবার নয়াদিল্লিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ জানিয়েছেন, এই বৈঠকে পরমাণু সহযোগিতা, প্রস্তাবিত সুখোই এসইউ-৫৭ যুদ্ধবিমান এবং রাশিয়ার অশোধিত তেলের উপর মার্কিন শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। উল্লেখ্য, ২০১২, ২০১৬ এবং ২০২১ সালের পর এ বার নিয়ে মোট চতুর্থবার ব্রিকস-এর আয়োজক দেশ হিসেবে সভাপতিত্ব করছে ভারত। এবারের সম্মেলনে উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও সুস্থিতি বৃদ্ধির ওপর মূল জোর দেওয়া হচ্ছে।