পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: খুনের মামলায় মূল অভিযুক্ত তিনি, অথচ দিব্যি প্রতি মাসে সরকারি বেতন তুলে নিচ্ছেন। খাতায়-কলমে তিনি ‘নিখোঁজ’ হলেও, কী ভাবে তাঁর কাছে বেতন পৌঁছচ্ছে, তা নিয়ে এ বার রাজ্য সরকার এবং সিআইডি-কে তীব্র ভর্ৎসনা করল কলকাতা হাই কোর্ট। গত বছর সল্টলেকের দত্তাবাদের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে খুনের ঘটনায় নাম জড়ায় রাজগঞ্জের তৎকালীন বিডিও প্রশান্ত বর্মনের। সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলেও তিনি তা অমান্য করে গা ঢাকা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী সিআইডি এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চরম উষ্মা প্রকাশ করেন।

গত বছরের ২৯ অক্টোবর নিউ টাউনের যাত্রাগাছির খালধার থেকে দত্তাবাদের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তাঁকে অপহরণ করে খুনের অভিযোগে নাম জড়ায় অপসারিত বিডিও প্রশান্তের। গত জুলাই মাস থেকে এই খুনের তদন্তভার নেয় সিআইডি। আশ্চর্যের বিষয় হল, পুলিশ এই মামলায় যে চার্জশিট দিয়েছিল, তাতে প্রশান্তের নাম ছিল না। নিম্ন আদালত থেকে তিনি আগাম জামিন পেলেও কলকাতা হাই কোর্ট তা খারিজ করে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়।

পরে গত ২৩ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টও একই নির্দেশ বহাল রাখে। কিন্তু তারপর থেকে প্রশান্ত বেপাত্তা। অথচ, তিনি নিয়মিত সরকারি কোষাগার থেকে বেতন নিচ্ছেন বলে আদালতে অভিযোগ উঠেছে। এই প্রসঙ্গে বিস্ময় প্রকাশ করে বিচারপতি চক্রবর্তী রাজ্যের আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন, এক জন অভিযুক্ত সরকারি আধিকারিক গায়েব হয়ে যাওয়ার পরেও কী ভাবে বেতন পাচ্ছেন এবং কেন সিআইডি তাঁকে খুঁজে বের করতে পারছে না।

এ দিনের শুনানিতে প্রশান্তের আইনজীবী আদালতে পাল্টা হলফনামা জমা দেওয়ার আর্জি জানালে, বিচারপতি তাঁকে ভর্ৎসনা করে বলেন যে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘন করে তাঁর মক্কেল অত্যন্ত প্রভাবশালী আচরণ করছেন।

এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে তিন সপ্তাহ পর। তবে পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে গত মে মাসের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। গত ২৫ মে নিউ টাউনের ইকো পার্ক থানা এলাকায় পথসুরক্ষা বিধি ভেঙে এক পথচারীকে ধাক্কা মেরে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন এই প্রশান্ত। কিন্তু পরের দিন তাঁকে বারাসত আদালতে হাজির করানো হলেও, পুলিশ সময়মতো প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে পারেনি। এর ফলে বিচারক সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পর ২৬ মে সহজেই জামিন পেয়ে যান প্রশান্ত। আর তার পর থেকেই তিনি ফের নিখোঁজ। হাতের মুঠোয় পেয়েও কেন পুলিশ তাঁকে ধরতে পারল না, সেই প্রশ্ন তুলেই চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে হাই কোর্ট।