পুবের কলম, নয়াদিল্লি: ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত এক ১৪ বছরের নাবালিকা প্রতিবাদীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং তার বাড়িতে পাথর ছোঁড়ার অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিল দেশের শীর্ষ আদালত। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনো নাবালিকাকে ধমক দেওয়া বা ভয় দেখানোর ঘটনা হালকাভাবে নেওয়া যায় না। ফৌজদারি মামলা দায়ের করার কারণে আক্রান্ত বা তার পরিবারকে কেউ ভয় দেখাতে বা কোণঠাসা করতে পারে না।
আরও পড়ুন:
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনা-কে নিয়ে গঠিত তিন বিচারপতির এই বেঞ্চ উত্তর প্রদেশ সরকার ও দিল্লি পুলিশের কাছে এফআইআর-এর স্থিতি, নাবালিকা ও তার পরিবারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে রিপোর্ট তলব করেছে।
শীর্ষ আদালত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাক নির্দেশ দিয়েছে, যাতে ওই কিশোরীর এফআইআর-এর ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিশ্চিত করা হয় এবং তাকে উপযুক্ত পুলিশি সুরক্ষা প্রদান করা হয়।আরও পড়ুন:
ছাত্র আন্দোলন সম্পর্কিত মামলার শুনানি চলাকালীন আইনজীবী টি ভল্লা ওই ১৪ বছরের কিশোরীর নিরাপত্তার বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। তিনি জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশ করে এক ব্যক্তি গর্ব করে দাবি করেছিল যে সে আন্দোলনের সময় কিশোরীর বাবার ওপর হামলা চালিয়েছে। আইনজীবী ভল্লা আদালতে সওয়াল করেন, "যে ব্যক্তি ভিডিওতে হামলার কথা স্বীকার করেছে, তার সঙ্গে থাকা সহযোগীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টে শিশুটির নামেই এফআইআর করা হয়েছে— যা এই আদালতের আগের নির্দেশের পরিপন্থী।
সংসদ মার্গ পুলিশ স্টেশনে ওই কিশোরীর এফআইআর নেওয়া হলেও, তার বাড়িতে পাথর ছোঁড়ার ভিডিও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও দুষ্কৃতীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। কোনো তদন্ত কমিটির রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে ওই শিশুর কোনো ক্ষতি হলে তা আর ফিরিয়ে আনা যাবে না।"আরও পড়ুন:
সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট থেকে ঘটনাটি জানেন এবং ওই কিশোরী দিনে একাধিকবার সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকেন। তবে সলিসিটর জেনারেলের যুক্তি খারিজ করে দিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট জানান, "শিশু শেষ পর্যন্ত শিশুই।" স্থানীয় পুলিশের উচিত ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখাও ওই নাবালিকাকে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা দেওয়া।