পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি)-এর নির্দেশ মেনে মধ্যপ্রদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী ইন্দোরের প্রাণকেন্দ্রে কানহ নদীর তীরে এক বিশাল উচ্ছেদ অভিযান চালাল জেলা প্রশাসন। অভিযানের মাধ্যমে নদীর পাড়ে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা প্রায় ৫০টিরও বেশি দোকান এবং ৪৫টি অননুমোদিত কারখানা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া প্রায় দুই একর সরকারি জমির আনুমানিক বাজারমূল্য ১০০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে প্রশাসন। উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন একাংশের ক্ষোভ ও বাধাদানের মুখে পড়তে হয় পুলিশকে।

এ সময় এক প্রবীণ পুলিশ আধিকারিককে হেনস্থা ও ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগে ১৫ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করা হয়েছে এবং ৬ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
 
মহকুমা শাসক ঘনশ্যাম ধাঙ্গড় জানান, নদীর পাড় বরাবর অবৈধ নির্মাণের ফলে কানহ নদীর প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। এনজিটি-র স্পষ্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী, নদীর তীর থেকে ৩০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা সমস্ত বেআইনি কাঠামো ভেঙে ফেলা হচ্ছে।
 
উচ্ছেদ চলাকালীন অবৈধ দখলদারদের অনেকে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ভিড় ছত্রভঙ্গ করার সময় এক আন্দোলনকারী অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিশ কমিশনার দীনেশ আগরওয়ালকে ধাক্কা মারে। ধাক্কার সামলাতে না পেরে তিনি মাটিতে পড়ে যান। সহকারী পুলিশ কমিশনার বিজয় চৌধুরী জানান, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, শান্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং পুলিশকে হেনস্থা করার অপরাধে মোট ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ জনকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নদীর অস্তিত্ব রক্ষায় এই ধরণের উচ্ছেদ অভিযান আগামী দিনেও বজায় থাকবে।