পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম সিকিমের রিমবি গ্রামে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। গত দুই দিন ধরে চলা টানা ও অতিভারী বৃষ্টির ফলে পাহাড়ে নেমে আসা হড়পা বান এবং ধসে অন্তত ৩২টি বসতবাড়ি এবং ৪টি সরকারি আবাসন মাটির নিচে চাপা পড়া বা ধসে যাওয়ার আশঙ্কায় পড়েছে। একাধিক বাড়ি ইতিমধ্যে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

গেজিং জেলার অন্তর্গত ইউকসোম-রিমবি এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২২৪.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা সমগ্র সিকিম রাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ।

গ্রামের ঠিক ওপরে অবস্থিত সিংলিতাম টিলা ক্রমাগত ধসে যাওয়ার কারণে আগস্ট মাস থেকেই এই সংকটের সূচনা হয়েছিল। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে দফায় দফায় আসা কাদা ও পাথরের স্রোত সাম্প্রতিক বৃষ্টির ফলে আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই আশঙ্কাজনক যে, তুলনামূলক নিরাপদ মনে করা মিত খোলার নিকটের বাড়িগুলিও এখন কাদা ও ধ্বংসাবশেষে প্লাবিত হচ্ছে।

ধসের জেরে এই অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

রিমবি-ইউকসোম রোড এবং রিমবি-খেচোপালরি রোড সম্পূর্ণ বন্ধ। ইউকসোম-তাশিডিং কেন্দ্রের সংযোগকারী সড়ক পথ অবরুদ্ধ হওয়ায় যানবাহন চলাচল পুরোপুরি স্তব্ধ। প্রাণহানি এড়াতে পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আগেই বহু পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ বসতবাড়ির বাসিন্দাদের রিমবি পঞ্চায়েত ভবনে খোলা ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।
অনেকে নিকটাত্মীয়দের বাড়িতেও ঠাঁই নিয়েছেন।

গেইজিং জেলা প্রশাসন উচ্চ সতর্কতা জারি রেখে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তদারকি চালাচ্ছে এবং দুর্গতদের ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে। পশ্চিম সিকিমের এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি জানান, "রিমবি এলাকার পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর। নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুস্থতাই এখন আমাদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। প্রতিটি প্রশাসনিক দপ্তরকে হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে এবং নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সরকার এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে রয়েছে।"