পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কন্যা তথা উত্তরপ্রদেশের নয়ডার জেলাশাসক মেধা রূপমের মামলা সুপ্রিম কোর্টের নির্দিষ্ট একটি বেঞ্চে পাঠানো নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রোস্টার বা নিয়ম অমান্য করে কেন তাঁর মামলা নির্দিষ্ট বেঞ্চে পাঠানো হল, সেই প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিল আইনজীবীদের সংগঠন ‘লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ফর কনস্টিটিউশন’। পাশাপাশি বুধবার এই মামলার শুনানির সময় কেন ভিডিও কনফারেন্সের অডিয়ো বন্ধ রাখা হয়েছিল, তা নিয়েও ওই চিঠিতে সরব হয়েছে সংগঠনটি।
জানা গিয়েছে, গত ১৩ জুলাই থেকে শীর্ষ আদালতে যে রোস্টার চালু রয়েছে, সেই অনুযায়ী সতর্কতামূলক আটক সংক্রান্ত মামলাগুলি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত-সহ প্রথম চারটি বেঞ্চে যাওয়ার কথা। যে শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে মেধার বিরুদ্ধে মামলা হয়, সেই সংক্রান্ত অন্যান্য মামলাগুলি ইতিমধ্যেই বিচারপতি বিভি নাগরত্নর বেঞ্চে বিচারাধীন রয়েছে।
চলতি বছরে নয়ডায় শ্রমিক বিক্ষোভের সময় বঙ্গতনয়া আকৃতিকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে (এনএসএ) আটক করার নির্দেশ দিয়েছিলেন জেলাশাসক মেধা। টানা পাঁচ মাস বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকার পর গত ২ সেপ্টেম্বর এলাহাবাদ হাই কোর্ট আকৃতির বিরুদ্ধে ওই আইন প্রয়োগের নির্দেশ বাতিল করে দেয়। পাশাপাশি মেধার তীব্র সমালোচনা করে আদালত জানায়, নিছক দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য নেওয়া জেলাশাসকের এই সিদ্ধান্ত উপহাসের যোগ্য। ক্ষতিপূরণ হিসেবে মেধা ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বেতন থেকে ৫ লক্ষ টাকা কেটে আকৃতিকে দেওয়ার নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। পুলিশ এবং আমলাদের ব্রিটিশ আমলের দমনপীড়নের কায়দায় কাজ না করে সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার কড়া বার্তাও দেওয়া হয়।
এলাহাবাদ হাই কোর্টের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মেধা ও যোগী সরকার। বুধবার শুনানিপর্বে বিচারপতি শর্মা ও বিচারপতি সিংহের বেঞ্চ হাই কোর্টের নির্দেশের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে। তবে বৃহস্পতিবার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেই নির্দেশের ব্যাখ্যামূলক সংশোধন করেছে শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, জেলাশাসক মেধার বিরুদ্ধে হাই কোর্টের দেওয়া রায়ের ওপর সামগ্রিক ভাবে কোনও স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়নি। আপাতত মেধার বেতন থেকে ৫ লক্ষ টাকা কাটা এবং তিরস্কারের নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আকৃতির বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে আটকের নির্দেশ বাতিলের যে আদেশ হাই কোর্ট দিয়েছিল, তা সম্পূর্ণ বহাল থাকছে।