যেকোনো সংঘাতের স্থায়ী সমাধান যুদ্ধ বা অস্ত্রের মাধ্যমে নয়, বরং আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার প্রতি বাংলাদেশের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান, জলবায়ু ন্যায়বিচার, নিরস্ত্রীকরণ এবং বৈশ্বিক বহুপাক্ষিকতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ফিলিস্তিনি জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্দশার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে এই সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকারসহ ফিলিস্তিনি জনগণের সব ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ সবসময় অবিচল রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

ভাষণে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, গত নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ।

এর ফলে দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের মূল উৎস যেহেতু মিয়ানমারে, তাই এর স্থায়ী সমাধানও তাদের নিজ দেশেই নিহিত। রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ও জোরালো ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

এ ছাড়া বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধের পরিবর্তে সংলাপ, কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।