জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে ইরানকে ‘ধূলিসাৎ’ করার হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি না হলে দেশটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, তাঁর সামনে এখন ‘বড় সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার সময় এসেছে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মঙ্গলবার দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া হবে, নাকি ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ‘দ্রুত ধ্বংস’ করা হবে—সেটিই এখন তাঁর সিদ্ধান্তের বিষয়। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে পারে।

তবে প্রকাশ্য হুঁশিয়ারির পাশাপাশি ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে।

ট্রাম্প জানান, জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টার একটি বৈঠক হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে বার্তা দিয়েছে।

ভাষণে ট্রাম্প রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও কথা বলেন। দ্রুত যুদ্ধ বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বদলে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দ ব্যবহারের প্রস্তাব দেন এবং প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র চীনের কাছে পিছিয়ে পড়বে না বলে দাবি করেন।

বিশ্বায়নের ধারণা নিয়েও সমালোচনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর বক্তব্যে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ভূমিকা নিয়েও তীব্র আপত্তি উঠে আসে। একই সঙ্গে কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের সমালোচনা করে দেশটিকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে ট্রাম্পের ভাষণের পর ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাঁর মন্তব্যকে ‘প্রচার’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরান জানিয়েছে, সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের জবাব দেওয়ার জন্য তারা প্রস্তুত। ফলে একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা থাকলেও অন্যদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা এখনও অব্যাহত রয়েছে।