পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকায় নাম তোলা এবং বাদ দেওয়া নিয়ে ট্রাইবুনালে জমা পড়া আবেদনের পরিসংখ্যান মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে পেশ করল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ট্রাইবুনালে মোট ৩৮ লক্ষ ৩১ হাজার ৪২৯টি আবেদন জমা পড়েছে।
আরও পড়ুন:
এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ১ লক্ষ ২৬ হাজার ১৯৪টির। অর্থাৎ, এখনও ৩৭ লক্ষ ৫ হাজার ২৩৫টি আবেদন ঝুলে রয়েছে।
এই ধীর গতিতে কাজ এগোলে সব আবেদনের নিষ্পত্তি হতে ১২ বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে। তাই দ্রুত কাজ শেষ করতে ট্রাইবুনালের সংখ্যা বাড়িয়ে ৪২টি করার প্রস্তাব দিয়েছে কমিশন।আরও পড়ুন:
রাজ্যের ৬০ লক্ষ ভোটারকে ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রেখেছিল কমিশন। পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ৩৩ লক্ষ নাম তালিকায় ফেরানো হয় এবং বাকি ২৭ লক্ষের আপিল শোনার জন্য ট্রাইবুনাল গঠিত হয়।
গত ১ অগস্ট মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, এই ২৭ লক্ষের মধ্যে মাত্র ৭ লক্ষ মানুষ আবেদন করেছেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে কমিশনের দেওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ওই তালিকা থেকে ২২ লক্ষ ২১ হাজার ১১৮ জন আবেদন করেছেন। পাশাপাশি, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করে আরও ১৬ লক্ষ ১০ হাজার ৩১১টি আবেদন জমা পড়েছে। দুই ধরনের আবেদন মিলিয়েই মোট সংখ্যা ৩৮ লক্ষ পেরিয়েছে।আরও পড়ুন:
জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে, সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে মুর্শিদাবাদে। সেখানে ৭ লক্ষ ৪৭ হাজার ৯২১টি আবেদনের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ৫১৪টির। মালদহে ৫ লক্ষ ৩১ হাজার ৩৪৫টির মধ্যে ১,৫১৪টি, উত্তর ২৪ পরগনায় ৩ লক্ষ ৫৯ হাজার ৩৭৫টির মধ্যে ৩০১টি এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৩ লক্ষ ২১ হাজার ৭৫৪টি আবেদনের মধ্যে ২২ হাজার ৪৯টি নিষ্পত্তি হয়েছে। এই ধীর গতির কারণ হিসেবে ট্রাইবুনালের তরফে জানানো হয়েছে, উপযুক্ত পরিকাঠামোর অভাবে মূল কাজ এখনও শুরুই করা যায়নি। এত দিন কেবল ছোটখাটো ভুলের সংশোধন করা হয়েছে। তবে চলতি সপ্তাহ থেকেই আবেদনকারীদের নোটিস পাঠিয়ে ডাকা হবে। অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধ করতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন অন্যতম মামলাকারী অধীররঞ্জন চৌধুরী।