পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: করোনা মহামারী চলাকালীন রাজ্যের গ্রামীণ এলাকার মানুষের জন্য চালু হওয়া টেলি-মেডিসিন প্রকল্পের কোটি কোটি টাকার সরকারি সরঞ্জাম উধাও হয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠল। স্বাস্থ্য দফতরের অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে জানা গিয়েছে, রাজ্যের অন্তত ৬৪টি সরকারি হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে কম্পিউটার ও চিকিৎসার নানা মূল্যবান যন্ত্রপাতি গায়েব হয়ে গিয়েছে। এই ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্য ভবন অবিলম্বে সব জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের (সিএমওএইচ) স্থানীয় থানায় এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে, সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন থেকে উধাও হওয়া সামগ্রীর ক্ষতিপূরণ কেটে নেওয়ার কড়া সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।


গ্রামীণ রোগীদের ঘরে বসে মেডিক্যাল কলেজের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরিষেবা দিতে কেন্দ্রীয় অনুদানে ‘স্বাস্থ্য ইঙ্গিত’ নামের ওই বিশেষ প্রকল্পটি চালু হয়েছিল। এর জন্য হাজার হাজার কম্পিউটার, ইন্টারনেট সংযোগ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হয়। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের অধীনে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের স্বাস্থ্য খাতে ৮২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল, যার একটি বড় অংশ এই পরিকাঠামো তৈরিতে খরচ হয়। কিন্তু সম্প্রতি স্বাস্থ্য দফতরের পরিদর্শকরা দেখেন, বহু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেই পরিকাঠামোর কোনও অস্তিত্বই নেই।
কোথাও আস্ত মনিটর উধাও, তো কোথাও ইউপিএসের ভেতর থেকে ব্যাটারি বা এমসিবি চুরি হয়ে গিয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, হাওড়া, দুই মেদিনীপুর, দুই চব্বিশ পরগনা ও পূর্ব বর্ধমান-সহ বিভিন্ন জেলার স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে এই দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে।
এই বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থের অপচয় ও তছরুপের ঘটনায় কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। স্বাস্থ্য ভবনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যে সমস্ত কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটেছে, সেখানকার দায়িত্বে থাকা মেডিক্যাল অফিসার, ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য আধিকারিক (বিএমওএইচ), নার্স বা কমিউনিটি হেলথ অফিসারদের সরাসরি জবাবদিহি করতে হবে। চুরি যাওয়া সামগ্রীর আনুমানিক বাজারমূল্য হিসেব করে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের বেতন থেকে সেই টাকা কেটে নেওয়া হবে বলে নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে।