দক্ষিণ ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির ঘাটতিতে কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ায় খরা ঘোষণা ও বিশেষ আর্থিক প্যাকেজের দাবি জোরালো হচ্ছে। মহারাষ্ট্রের পাশাপাশি অন্ধ্রপ্রদেশ ও কর্ণাটকের একাধিক অঞ্চলেও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কৃষকদের ক্ষতিপূরণ এবং কৃষিঋণ মকুবের দাবিও উঠছে।
আরও পড়ুন:
কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিকে কৃষি সংক্রান্ত প্রকল্প ও লক্ষ্যমাত্রা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। সম্প্রতি হায়দরাবাদে দক্ষিণাঞ্চলীয় কৃষি সম্মেলনে তিনি কম বৃষ্টিপ্রবণ ১০০টিরও বেশি জেলায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প পরিকল্পনা তৈরির কথা জানিয়েছেন।
কম জল প্রয়োজন এমন ফসলের দিকে ঝোঁকা এবং বীজের বিশেষ মজুত তৈরির কথাও বলা হয়েছে।আরও পড়ুন:
ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের হিসাব অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে সামগ্রিক মৌসুমি বৃষ্টির ঘাটতি ছিল ১৫ শতাংশ। দক্ষিণ উপদ্বীপে ঘাটতি ছিল আরও বেশি। বৃষ্টির এই ঘাটতির প্রভাব কৃষি উৎপাদনের উপর পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরও পড়ুন:
অন্ধ্রপ্রদেশে কৃষক, ভাগচাষি ও কৃষিশ্রমিকদের একাংশ চাষের এলাকাকে খরাকবলিত ঘোষণা করার পাশাপাশি বিশেষ ত্রাণ প্যাকেজের দাবি জানিয়েছেন।
তাঁদের দাবি, প্রায় ৫০ লক্ষ একর জমিতে চাষ হলেও তার মধ্যে প্রায় ২০ লক্ষ একর জমিতে ফসল পাওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে কৃষিঋণ মকুবের দাবিও উঠেছে।আরও পড়ুন:
কর্ণাটকেও পরিস্থিতি নিয়ে কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কৃষকদের একাংশ। রাজ্য সরকারও বৃষ্টির ঘাটতি ও তার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রে খরার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হেক্টরপ্রতি ৫০ হাজার টাকা সহায়তার দাবি জানিয়েছেন শরদ পাওয়ার। এ নিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীসের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন।আরও পড়ুন:
কম বৃষ্টির প্রভাব খরিফ চাষে পড়ার পাশাপাশি আগামী রবি মরশুম নিয়েও চিন্তা বাড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর দিল্লির পুসা ইনস্টিটিউটে রবি সম্মেলন হবে। সেখানে বিভিন্ন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রীরা ও আধিকারিকরা রবি মরশুমের ফসল, চাষের এলাকা, বীজ, সার এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পরিকল্পনা করবেন।
আরও পড়ুন:
কেন্দ্রের লক্ষ্য, রবি মরশুমে উৎপাদন বাড়িয়ে কম বৃষ্টির কারণে খরিফ চাষে সম্ভাব্য ঘাটতির প্রভাব যতটা সম্ভব সামাল দেওয়া। একই সঙ্গে দক্ষিণের বৃষ্টিঘাটতি-পীড়িত জেলাগুলিতে বিকল্প ফসল ও জলসাশ্রয়ী কৃষি পদ্ধতির উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।