উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায় : পাঁচ বছর আগে প্রায় ৩২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরি হয়েছিল কংক্রিটের সেতু। কিন্তু শনিবার ভোররাতে আচমকাই সেই গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভেঙে পড়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনের পাথরপ্রতিমা ব্লকের বাসিন্দারা। সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলে রবিবার সেতুর কাছে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঘটনাটি ঘটেছে পাথরপ্রতিমার দক্ষিণ গঙ্গাধরপুর পঞ্চায়েতের আবাদ গঙ্গাধরপুর এলাকায়। কালু নদীর উপর তৈরি এই কংক্রিটের ছোট সেতুটি আবাদ গঙ্গাধরপুর গ্রামের সঙ্গে শ্রীনারায়ণপুর পূর্ণচন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার।

যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল।স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় পাঁচ বছর আগে তৎকালীন তৃণমূল সরকারের আমলে প্রায় ৩২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের সময় থেকেই সেতুর কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল।স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণের পর সেতুটিতে সমস্যা দেখা দিলে কয়েকটি সরু রড ব্যবহার করে কোনও রকমে ফের ঢালাই করে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ করতে গেলে স্থানীয়দের ভয় দেখানো, মারধর এবং পুলিশে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।অবশেষে শনিবার ভোরে আচমকাই সেতুটির একটি অংশ ভেঙে পড়ে।
ঘটনার পর রবিবার সেতু সংলগ্ন এলাকায় জড়ো হন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, নিম্নমানের নির্মাণকাজের সঙ্গে যারা যুক্ত, তাঁদের চিহ্নিত করে তদন্ত করা হোক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।পাশাপাশি দ্রুত নতুন করে সেতু নির্মাণের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের কাছে এই সেতুটির গুরুত্ব যথেষ্ট। স্কুল-কলেজে যাতায়াতের পাশাপাশি গদামথুরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, রামগঙ্গা বিডিও অফিসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পৌঁছনোর অন্যতম প্রধান যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল এই সেতু। ফলে সেতু ভেঙে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন পড়ুয়া, অসুস্থ মানুষ এবং জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্তরা।

বর্তমানে কালু নদী পারাপারের জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে কলাগাছ দিয়ে তৈরি অস্থায়ী ‘মান্দাস’। ফলে দ্রুত সেতু পুনর্নির্মাণ না হলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও সমস্যাজনক হতে পারে বলে আশঙ্কা এলাকাবাসীর।
ঘটনার খবর পেয়ে সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানা বলেন, “অতি দ্রুত সেতুটির সংস্কারের কাজ করা হবে। পাশাপাশি বিগত দিনে যারা দুর্নীতি করেছে,তাদের বিরুদ্ধে ও তদন্ত করা হবে।”এখন স্থানীয়দের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত কাজ শুরু করে স্থায়ীভাবে সেতুটির পুনর্নির্মাণ করা হোক। পাশাপাশি সেতু নির্মাণে কোনও অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।