পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ইন্দোরে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর প্রস্তাবিত 'ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ' ছাত্র সমাবেশ ঘিরে তীব্র প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। শনিবারের (১৯ সেপ্টেম্বর) এই কর্মসূচির জন্য পুলিশ প্রশাসন মোট ৩১টি কঠোর নিরাপত্তা শর্ত জারি করেছে। তবে সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হলো, এই নিরাপত্তা সংক্রান্ত নথিতে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর ১৯৯১ সালের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড এবং তার তদন্তকারী 'বর্মা কমিশন'-এর রিপোর্টের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থান পরিবর্তন, তারিখ পিছিয়ে যাওয়া এবং অতিরিক্ত অর্থ দাবির জটিলতা কাটিয়ে বৃহস্পতিবার ইন্দোর শহর কংগ্রেস সভাপতি চিন্তু চৌকসেকে পুলিশের এই শর্তাবলী ও অনুমিতপত্র হস্তান্তরিত করা হয়।

১৯৯১ সালের ২১ মে তামিলনাড়ুর শ্রীপেরুমবুদুরে রাজীব গান্ধীর আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হওয়ার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি খতিয়ে দেখতে বর্মা কমিশন গঠন করা হয়েছিল। ইন্দোর পুলিশ রাহুলের সভার নিরাপত্তা শর্তে এই কমিশনের রিপোর্ট উল্লেখ করে জানিয়েছে, কোনো বড় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আয়োজকদের অনিয়ন্ত্রিত বা দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণই চরম নিরাপত্তার বিপর্যয় ডেকে আনে। তাই সভার সুরক্ষার একটি বড় দায়িত্ব আয়োজক দলকেও নিতে হবে।

কংগ্রেস নেতৃত্ব এই উল্লেখের কড়া সমালোচনা করে অভিযোগ করেছে যে, ক্ষমতাসীন দল বিজেপি পুলিশকে ব্যবহার করে রাজনীতি করছে এবং ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে বিজেপি দাবি করেছে, রাহুল গান্ধীর নিরাপত্তার খাতিরেই বর্মা কমিশনের সতর্কবার্তা স্মরণ করানো হয়েছে।

'ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ' কর্মসূচিটি প্রথমে ১২ সেপ্টেম্বর জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সেখানে অনুমতি না মেলায় সভা পিছিয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর করা হয় এবং রিজিনাল পার্কের উল্টোদিকে ইন্দোর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ফাঁকা জমি বেছে নেওয়া হয়। আইডিএ ৫টি বিশেষ শর্তে ফাঁকা জমি ব্যবহারের অনুমতি দিলেও সময়সীমার আগেই জমি ব্যবহারের অভিযোগে কংগ্রেসের কাছে বাড়তি প্রায় ৪ লক্ষ টাকা দাবি করেছে।