শিবসেনার নাম ও প্রতীক নিয়ে উদ্ধব ঠাকরে এবং একনাথ শিন্ডে শিবিরের আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট। কোনও রাজনৈতিক দলের পরিচয় নির্ধারণে শুধুমাত্র বিধায়ক-সাংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে মাপকাঠি করা যায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন করেছে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ।
আরও পড়ুন:
বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি বলেন, রাজনৈতিক দলের স্বীকৃতি নির্ধারণে নির্বাচনী ফলাফল ও সংখ্যার গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা পরে রাজনৈতিক আনুগত্য বদল করলে সেই সংখ্যাকে কীভাবে দেখা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। তাঁর পর্যবেক্ষণ, “বর্তমানে ভোটাররা দলকে ভোট দেন, প্রতিনিধিকে নয়।”
আরও পড়ুন:
এরপরই আদালত প্রশ্ন তোলে, কোনও প্রার্থী একটি দলের প্রতীকে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর অন্য দলে যোগ দিলে, তাঁর পাওয়া ভোটকে কি নতুন দলের প্রতি সমর্থন হিসেবে গণ্য করা যায়?
বিচারপতি বাগচির প্রশ্ন, এটি ভোটারদের প্রকৃত রাজনৈতিক পছন্দের সঠিক প্রতিফলন কি না।আরও পড়ুন:
তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, নির্বাচন কমিশনের জায়গায় গিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার কথা তারা বলছে না। বিচারপতি বাগচি জানান, বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার ক্ষেত্রে আদালত দেখতে পারে, কমিশন তার বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগের সময় প্রাসঙ্গিক সব বিষয় ও সম্ভাব্য বিকল্প বিবেচনা করেছিল কি না। তিনি বলেন, কমিশনের সিদ্ধান্ত ভুল—এমন কথা তিনি বলেননি; প্রশ্ন হল, সব বিকল্প খতিয়ে দেখা হয়েছিল কি না।
আরও পড়ুন:
শিন্ডে শিবিরের হয়ে সওয়াল করা আইনজীবী নীরজ কিষাণ কৌল কমিশনের সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাপকাঠির পক্ষে যুক্তি দেন। তাঁর বক্তব্য, কমিশন শুধু বিধায়ক বা সাংসদের সংখ্যা দেখেনি; ২০১৯ সালের নির্বাচনে পাওয়া ভোট, ভোটের হার এবং সংসদ ও মহারাষ্ট্র বিধানসভায় দুই শিবিরের শক্তিও বিবেচনা করেছিল।
তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালে শিবসেনার হয়ে জয়ী ৫৫ জন বিধায়কের মধ্যে শিন্ডে শিবিরের ৪০ জন প্রায় ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। একইভাবে দলের ১৮ জন নির্বাচিত সাংসদের মধ্যে শিন্ডে শিবিরের ১৩ জনের পাওয়া ভোটের হার ছিল প্রায় ৭৩ শতাংশ।আরও পড়ুন:
শুনানিতে ‘সুভাষ দেশাই’ মামলার প্রসঙ্গও ওঠে। কৌলের বক্তব্য, ওই রায়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাপকাঠি ব্যবহারের পথ পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। তবে বিচারপতি বাগচি জানান, জনপ্রতিনিধিদের সদস্যপদ বাতিলের প্রক্রিয়াকে এই বিতর্ক থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে দেখা যায় না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশন শিবসেনার প্রতীক নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ‘সুভাষ দেশাই’ মামলার রায় এখনও আসেনি।
আরও পড়ুন:
২০২২ সালে শিবসেনা ভেঙে উদ্ধব ঠাকরে ও একনাথ শিন্ডের দুটি শিবির তৈরি হয়। পরে নির্বাচন কমিশন সাংগঠনিক শক্তির বিষয়ে সন্তোষজনক সিদ্ধান্তে পৌঁছতে না পেরে আইনসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে শিন্ডে শিবিরকে ‘শিবসেনা’ নাম এবং ‘তির-ধনুক’ প্রতীক ব্যবহারের অনুমতি দেয়। কমিশনের হিসাবে, শিন্ডে শিবিরে ৪০ জন বিধায়ক ও ১৩ জন সাংসদ ছিলেন, আর উদ্ধব শিবিরে ছিলেন ১৫ জন বিধায়ক ও পাঁচ জন সাংসদ।
আরও পড়ুন:
এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছে উদ্ধব ঠাকরে শিবির। শুনানিতে আদালত বিকল্প হিসেবে দুই শিবিরকে আলাদা প্রতীক নিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি যাচাইয়ের সুযোগ দেওয়া যেত কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখেছে। তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, এটিই একমাত্র সম্ভাব্য সমাধান—এমন কথা বলা হচ্ছে না। মামলার শুনানি আগামী সপ্তাহে ফের হবে।