পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ঘাসফুল প্রতীক ও আদি দলের নাম হারানোর পর নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচন নিয়ে বড়সড় রাজনৈতিক চাল দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার কালীঘাটের বাসভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নন্দীগ্রামে তাঁরা কোনও প্রার্থী দিচ্ছেন না; বরং এই কেন্দ্রে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক কংগ্রেসকে পূর্ণ সমর্থন জানাবে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, নন্দীগ্রামে তাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না এবং তাঁদের ‘সিস্টার পার্টি’ কংগ্রেসকে সমর্থন করার মাধ্যমে জাতীয় স্তরে ‘ইন্ডিয়া’ জোটকে আরও শক্তিশালী করা হবে। ফলে আগামী ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের পাশে দাঁড়াচ্ছে মমতার শিবির। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়ে রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পর দীর্ঘ ১৫ বছর বাদে ২০২৬ সালে এসে ফের নন্দীগ্রামে প্রকাশ্যে কংগ্রেসকে সমর্থন জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তবে অপর উপনির্বাচন কেন্দ্র রেজিনগরে দল নিজে লড়াই করবে নাকি অন্য কাউকে সমর্থন করবে, সে বিষয়ে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

এর আগেই শুক্রবার নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে নাটকীয় মোড় নেয়। নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর হলদিয়ায় মহকুমা শাসকের দপ্তরে গিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন মমতার মনোনীত প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে। অন্য দিকে, নির্বাচন কমিশন ঘাসফুল প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করে মমতা শিবিরকে অন্তর্বর্তীকালীন ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসকে ‘খাম’ প্রতীক বরাদ্দ করেছে। প্রার্থী প্রত্যাহারের পর কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের এই সিদ্ধান্ত নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করল।