পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ইউপিআই লেনদেনের ক্ষেত্রে ২,০০০ টাকার বেশি পেমেন্টে এবার থেকে অতিরিক্ত ফি দিতে হবে। গত মঙ্গলবার কেন্দ্রের তরফে এই নির্দেশিকা জারির পর বুধবার তার ফি কাঠামোও প্রকাশ করা হয়েছে। আর এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। কংগ্রেসের অভিযোগ, আমেরিকার চাপে পড়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদি সরকার।

যদিও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক সেই দাবি নস্যাৎ করে সাফ জানিয়েছে, কোনও বিদেশি চাপে নয়, বরং দেশীয় পেমেন্ট ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতেই স্বাধীনভাবে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।

সম্প্রতি সংসদের বাদল অধিবেশনে ‘পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট’-এর সংশোধনী পাশ হয়। সেখানেই অনলাইন আর্থিক লেনদেনের উপর ফের ‘এমডিআর’ বা মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বসানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের পর থেকে দেশে এই নিয়ম বন্ধ ছিল।

মূলত কোনও ব্যবসায়ী যখন অনলাইনে টাকা গ্রহণ করেন, তখন তার জন্য ব্যাঙ্ককে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের ফি দিতে হয়, একেই এমডিআর বলা হয়। ইউপিআই লেনদেন নিয়ে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে।

এই নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসতেই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী তোপ দেগে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন সংস্থাগুলি ভারতের এমডিআর-মুক্ত ব্যবস্থার বিরোধিতা করে আসছিল। এবার সেই মার্কিন চাপের কাছেই মাথা নত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ব্যবসায়ীদের উপর এই ফি চাপানো হলে আখেরে তার কোপ সাধারণ মানুষের পকেটেই পড়বে। আগামী দিনে সমস্ত ইউপিআই লেনদেনে ফি বসানোর রাস্তা তৈরি করতেই এই পদক্ষেপ বলে দাবি কংগ্রেসের।

কংগ্রেসের এই সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। একটি বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, বিদেশি চাপের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ভারত তার অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থার স্বার্থে স্বাধীনভাবেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থমন্ত্রকের মতে, এই এমডিআর কোনও সরকারি কর বা ফি নয়। এটি থেকে পাওয়া অর্থ অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত পক্ষের মধ্যে আনুপাতিক হারে ভাগ করে দেওয়া হবে, যাতে গোটা ইউপিআই পরিকাঠামো আরও সুরক্ষিত ও শক্তিশালী হয়।