পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: মণিপুরে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে রক্তাক্ত সহিংসতা। তামেলং জেলায় সন্দেহভাজন নাগা উগ্রপন্থীদের গুলিতে দুই কুকি নারী নিহত হয়েছেন এবং একাধিক কাঁচা খামারবাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন রাজ্যটির কর্মকর্তারা। নিহতদের পরিচয় পাওয়া গেছে—৬০ বছর বয়সী চোঙ্গা সিটলহো এবং ৩০ বছর বয়সী কিমবোই সিংন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের গুলিবিদ্ধ দেহ ক্ষেতের মাঝে পড়ে থাকতে দেখে গ্রামবাসীরা উদ্ধার করেন।
এই ঘটনার পর আরও কয়েকজন গ্রামবাসী নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।সাম্প্রতিক ঘটনার মাত্র দু'দিন আগেই তামেলং ও নোনে জেলায় আরও চারজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। ফলে কয়েক দিনের ব্যবধানে সহিংসতায় মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়েছে। জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে ভিতরের একটি নির্জন মাঠে গেলে দুই কুকি নারীকে সশস্ত্র উগ্রপন্থীরা গুলি করে হত্যা করে। তামেলং জেলার টোলেন কুকি গ্রামে নিজ বাড়িতেই এক দম্পতিকে উগ্রপন্থীরা আক্রমণ করে। এতে স্বামী ও স্ত্রী প্রাণ হারান এবং তাঁদের শিশু সন্তান গুরুতর আহত হয়। একই দিনে (১৩ সেপ্টেম্বর) নোনে জেলার লংপি গ্রামে উগ্রপন্থীদের গুলিতে আরও এক নারী ও এক পুরুষ নিহত হন।
চুরাচাঁদপুর ভিত্তিক কুকি সংগঠন 'কুকি ইনপি মণিপুর' নিজ সম্প্রদায়ের ছয়জন গ্রামবাসীর এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটি ঘোষণা করেছে, বিচার না মেলা পর্যন্ত মঙ্গলবার নিহত দুই নারীর মরদেহ পরিবার গ্রহণ করবে না। মণিপুরের সমতলভিত্তিক মৈতৈ এবং পার্বত্য অঞ্চলের কুকি সম্প্রদায়ের সংঘাতের মাঝে নাগা উগ্রপন্থীদের নতুন করে এই হামলার ঘটনা উপত্যকা ও পার্বত্য অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।