পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ জেলায় এক তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ১৭ বছরের কিশোরীর মুণ্ডহীন দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই নৃসংশ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে নিহত কিশোরীর স্বামী ও শ্বশুরসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মৃতদেহের ধড় উদ্ধারের স্থান থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে একটি গাছের নিচে প্লাস্টিকের বস্তায় মোড়ানো অবস্থায় কাটা মাথাটি উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন:
নিহত কিশোরীর নাম পূনম কুমারী (১৭)। ধানবাদের বালিয়াপুর শহরের খেরবাড়িয়ার এক নির্জন জঙ্গলময় এলাকা থেকে শুক্রবার সকালে রক্তভেজা ধড়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন।
ঘটনাস্থলে ধূপকাঠি ও পূজার সামগ্রী মেলায় স্থানীয়ভাবে নরবলির গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তবে পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ভুল হবে।আরও পড়ুন:
পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার সকালে দেহ উদ্ধারের পর রাঁচি থেকে ফরেনসিক দল ও ডগ স্কোয়াড আনা হয়। ঘটনাস্থলে ঘাতকদের ফেলে যাওয়া একটি চটির গন্ধ শুঁকে স্নাইপার ডগ চার কিলোমিটার দূরে অভিযুক্ত ক্রিশের বাড়িতে গিয়ে পৌঁছায়। পুলিশ এই সূত্রের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত ক্রিশ রবাণীর বাবা জয়রাম রবাণী এবং পিসি আলোমনি দেবীসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ সুপার ঋত্বিক শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, অপরাধের পেছনে পারিবারিক অসন্তোষ ও সামাজিক মর্যাদাহানির ক্ষোভ কাজ করেছে।আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, গত বুধবার থেকে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা পূনম নিখোঁজ ছিল। বৃহস্পতিবার তার বাবা বালিয়াপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জানান। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে ফেলা যাওয়া পিসির চটিই পুরো হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে মূল চাবিকাঠি হয়ে ওঠে। পুলিশ ফরেনসিক নমুনা ও আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করেছে এবং শীঘ্রই আদালতে চার্জশিট পেশ করার প্রস্তুত নিচ্ছে।