পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: মিড-ডে মিল বা পিএম পোষণ প্রকল্পে ফের ছন্দপতন। রাজ্যের চার জেলায় স্কুলে স্কুলে খাবার সরবরাহের জন্য 'অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশন'-কে দেওয়া অনুমোদন প্রত্যাহার করে নিল সরকার। স্কুলশিক্ষা দফতরের তরফে গত ১১ সেপ্টেম্বর একটি নির্দেশিকা জারি করে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিকে এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত ২১ অগস্ট এই সংস্থাকে হাওড়া, পুরুলিয়া, উত্তর ২৪ পরগনার বিধাননগর, দমদম, রাজারহাট-নিউ টাউন এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম-১ ও ২ ব্লকে মিড-ডে মিল দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

গত ১১ জুলাই সংস্থার তরফে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে এই বিষয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। সেই প্রস্তাব বিবেচনার পরেই সরকার অনুমোদন দিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সেই ছাড়পত্র বাতিল করা হল।
এর আগে গত অগস্ট মাস থেকে কলকাতার প্রায় ৫০০টি স্কুলে মিড-ডে মিল সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয় 'অন্নামৃত ফাউন্ডেশন'-কে।
সেখানে নিরামিষ খাবার দেওয়া নিয়ে প্রথম থেকেই বিতর্ক শুরু হয়। পরিস্থিতি সামলাতে রাজ্য সরকারকে পড়ুয়াদের জন্য আলাদাভাবে ডিমের ব্যবস্থা করতে হয়। খাবার পৌঁছতে দেরি হওয়া নিয়েও বিভিন্ন স্কুলে ক্ষোভ ছড়ায়। বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মামলাও হয়।
যদিও ইসকনের তরফে চিঠি দিয়ে জানানো হয়, মিড-ডে মিল বিতরণের সঙ্গে তারা যুক্ত নয় এবং অন্নামৃত ফাউন্ডেশনের সঙ্গে তাদের আইনি কোনও সম্পর্ক নেই।
কলকাতার বাইরের জেলাগুলিতে হঠাৎ করে অক্ষয় পাত্রের অনুমোদন বাতিলের সুনির্দিষ্ট সরকারি কারণ জানানো হয়নি। তবে শিক্ষক মহলের একাংশের মতে, আলাদাভাবে ডিম দেওয়ার ক্ষেত্রে খরচের যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা এই বাতিলের অন্যতম কারণ হতে পারে। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল জানান, এই রাজ্যে জোর করে এভাবে মিড-ডে মিল চালানো যে সম্ভব নয়, তা প্রমাণিত হল। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ মিড-ডে মিল কর্মী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মধুমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সিদ্ধান্তকে তাঁদের আন্দোলনের জয় বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, দরপত্র ছাড়া কোনও সংস্থাকে এভাবে বরাত দেওয়া যায় না।