লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে হুথিদের তৎপরতা বাড়ায় সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নতুন করে সমস্যার মুখে পড়েছে। মোখা বন্দর ও পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সৌদির জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে।

হরমুজ প্রণালীর পাশাপাশি বাব আল-মান্দেবেও জটিলতা তৈরি হওয়ায় এশিয়া ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি পরিবহণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এরই মধ্যে সৌদির ইস্ট-ওয়েস্ট অয়েল পাইপলাইন লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঘটনায় শুক্রবার সাময়িকভাবে পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেয় রিয়াধ।

এদিকে সৌদি আরবের জাজান এলাকায় হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি মসজিদ-সহ বেশ কয়েকটি বাড়ি ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহত হয়েছেন দু’জন। হুথিদের দাবি, সৌদি সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করেই তারা ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, হুথিদের বাধার জেরে এশিয়ায় সৌদির তেল রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমেছে।

জুনে যেখানে এশিয়ায় প্রায় ৩৪ লক্ষ ব্যারেল তেল রপ্তানি হয়েছিল, আগস্টে তা নেমে আসে মাত্র ১ লক্ষ ২৮ হাজার ব্যারেলে। নতুন করে সংঘাত বাড়লে রপ্তানি আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

২০১৫ সাল থেকেই হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত চলছে। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির আগে দীর্ঘ সংঘাতে দেড় লক্ষেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি। বর্তমান পরিস্থিতিতে হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবকে সামরিক বা কূটনৈতিকভাবে আমেরিকা কতটা সহায়তা করবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সৌদির তেল অবকাঠামোয় হামলার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে দায়ী করেছেন।