উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায় : কৌশিকী অমাবস্যার ভরা কটালে ফের ভয়াবহ নদীভাঙনের কবলে পড়লো সুন্দরবনের গোসাবার দয়াপুর। গোসাবা ব্লকের সাতজেলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের দয়াপুর গ্রামের বীণাপাণি এলাকায় শনিবার সকাল থেকে পরপর দু’দফায় নদীবাঁধে ভয়াবহ ধস নামে। প্রায় ৩০০ মিটার নদীবাঁধ নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে।রবিবার সকালেও ওই এলাকায় ফের কিছুটা ভাঙন দেখা দেয়।এই ঘটনায় চরম আতঙ্কে রয়েছেন এলাকার কয়েক হাজার বাসিন্দা।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে আচমকাই নদীবাঁধে বড়সড় ফাটল দেখা দেয়। মুহূর্তের মধ্যে প্রায় ১০০ মিটার এলাকা জুড়ে বাঁধের মাটি এবং নদীর পাড়ের ম্যানগ্রোভের চর নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন সেচ দফতরের গোসাবা ডিভিশনের এসডিও শুভদীপ দালাল।

তাঁর নির্দেশে তিনটি জেসিবি নামিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হয়।কিন্তু পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আগেই বিকেলের দিকে ফের ভয়াবহ ধস নামে একই এলাকায়। জোয়ারের জলের প্রবল স্রোতে আরও প্রায় ২০০ মিটার বাঁধ মুহূর্তের মধ্যে নদী গর্ভে চলে যায়। সব মিলিয়ে ভাঙনের পরিমাণ প্রায় ৩০০ মিটারে পৌঁছয়।রবিবার সকালে ও বাঁধের কিছু অংশে নতুন করে ধস নামে।জোয়ারের জলের তোড়ে মেরামতির কাজ ও বারবার ব্যাহত হচ্ছে।ইতিমধ্যেই সেচ দফতরের কর্মীরা দিন-রাত এক করে বাঁধ রক্ষার কাজে নেমেছেন। তবে সামনেই আরও একটি ভরা কটাল।
তার আগে এতটা বিস্তীর্ণ এলাকায় বাঁধে ধস নামায় কার্যত রাতের ঘুম উড়েছে দয়াপুরের বাসিন্দাদের। যে কোনও মুহূর্তে নোনা জল বাঁধ টপকে বা ভাঙা অংশ দিয়ে গ্রামে ঢুকে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরাসেক্ষেত্রে বসতবাড়ির পাশাপাশি চাষের জমি এবং মিষ্টি জলের পুকুরও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।শনিবার ও রবিবার দু’দিনই এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি।খতিয়ে দেখেন গোসাবার বিধায়ক বিকর্ণ নস্কর। সেচ দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে বাঁধ মেরামতির কাজেরও তদারকি করেন তিনি।স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য চন্দন মণ্ডল বলেন, “ধস মেরামতের জন্য আমরা সেচ দফতরের সব রকম সহযোগিতা পাচ্ছি। কিন্তু প্রতি বছরই মাটির বাঁধ ভাঙছে। এর স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।
সরকারের কাছে আমাদের দাবি, এখানে দ্রুত কংক্রিটের বাঁধ নির্মাণ করা হোক।” অন্যদিকে আতঙ্কিত গ্রাম বাসীদের কথায়, “আমরা খুব আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। কখন বাঁধ ভেঙে নোনা জল গ্রামে ঢুকে পড়ে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। এই মাটির বাঁধ দিয়ে আর কতদিন রক্ষা করা যাবে, সেটাই চিন্তার বিষয়।”গ্রামবাসীদের অভিযোগ, প্রতি বছর ভরা কটাল ও নদীর জলের চাপে মাটির বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বারবার মেরামতি করেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। তাই দ্রুত কংক্রিটের স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না হলে আগামী কটালের জলে গোটা দয়াপুর প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেরামতির কাজ চললেও,আগামী ভরা কটালের আগে শেষ পর্যন্ত বাঁধ কতটা রক্ষা করা যায়, সেই দিকেই তাকিয়ে দয়াপুরের কয়েক হাজার মানুষ।