পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: প্রতি বছর দুর্গাপুজোর আগে ওপার বাংলা থেকে এপার বাংলায় ইলিশ আসাটা দীর্ঘদিনের রেওয়াজ। কিন্তু এবার দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। নিজেদের দেশে উৎপাদন কমে যাওয়ায় ঘাটতি মেটাতে এবার ভারত থেকেই ইলিশ আমদানি করল বাংলাদেশ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত দু’মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজ্য গুজরাত থেকে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ পাড়ি দিয়েছে প্রতিবেশী দেশে। এই পরিস্থিতিতে এবারের পুজোয় এপার বাংলার বাঙালির পাতে পদ্মার সুস্বাদু ইলিশ জুটবে কি না, তা নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে মোট ইলিশের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই বাংলাদেশে ধরা পড়ে। কিন্তু চলতি বছরে সেখানে ইলিশের আকাল দেখা দিয়েছে। হাওড়া পাইকারি ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ জানান, সাধারণত ভারত থেকে রুই, বোয়াল বা ট্যাংরা ওপার বাংলায় পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে ইলিশের ঘাটতি থাকায় এই প্রথমবার এখান থেকে ইলিশ যাচ্ছে। মূলত বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও সিলেটে ডিমভরা ইলিশের ব্যাপক চাহিদা মেটাতেই গুজরাত থেকে এই মাছ আমদানি করা হয়েছে।

এই ইলিশ ও তার ডিম স্থানীয় বাজারে বিক্রি করার পাশাপাশি তা শুকিয়ে নোনা ইলিশ হিসেবেও বিক্রি হচ্ছে। এমনকি প্রক্রিয়াকরণ করে বিদেশেও রফতানি করছে বাংলাদেশ।

২০১১ সালে তিস্তা চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকার ইলিশ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে। ২০১৯ সাল থেকে দুর্গাপুজো উপলক্ষে শুধুমাত্র 'উপহার' হিসেবে কিছু ইলিশ এপারে আসত। তবে বর্তমানে দুই পারেই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলেছে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেছেন শুভেন্দু অধিকারী এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তারেক রহমান। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীকে আম পাঠিয়ে সৌজন্য দেখিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু ইলিশ রফতানির ক্ষেত্রে তাদের নীতি এখনও অপরিবর্তিত। এই পরিস্থিতিতে এপার বাংলার মাছ ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে সরাসরি ইলিশের জন্য আবেদন জানিয়েছেন। তবে পুজোর আগে পদ্মার রূপোলি শস্য এপারে আসবে কি না, তার কোনও স্পষ্ট উত্তর এখনও মেলেনি।