পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: প্রাক্তন বিশেষ কর্তব্যরত আধিকারিকের বাসভবনে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর তল্লাশি এবং বিপুল পরিমাণ বেআইনি নগদ অর্থ ও সোনা উদ্ধারের পর কংগ্রেসের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে পদত্যাগ করলেন উত্তরাখণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা হরিশ রাওয়াত। উত্তরাখণ্ড অধীনস্থ সেবা চয়ন কমিশনের ২০১৬ সালের গ্রাম পঞ্চায়েত উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের তদন্তে নেমে ইডি এই তল্লাশি অভিযান চালায়।
আরও পড়ুন:
ইডি সূত্রে জানা গেছে, হরিশ রাওয়াত ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় তাঁর ওএসডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা চন্দন সিং জিনার বর্তমান বাসভবনে তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, জিনাকে কেন্দ্র করে তল্লাশি অভিযানে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে।
উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ৩২ লক্ষ টাকা নগদ অর্থ। পাওয়া গেছে ২০০.৫ গ্রাম সোনা (চেন ও কয়েন) এবং রোলেক্স, রাডো, পিয়াজে, মোভাডো ও তিসোটের মতো ব্র্যান্ডের ১২টি অত্যন্ত মহার্ঘ বিলাসবহুল ঘড়ি। জিন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৫২.১৬ লক্ষ টাকা বেআইনি অর্থ প্রতিরোধ আইনে ফ্রিজ করা হয়েছে।আরও পড়ুন:
যদিও ইডি এই মামলায় হরিশ রাওয়াতকে অভিযুক্ত হিসেবে নামভুক্ত করেনি, তবুও কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি রক্ষা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তিনি উত্তরাখণ্ড কংগ্রেস কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদ এবং কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির স্থায়ী আমন্ত্রিত সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
হরিশ রাওয়াত বলেন, "যদি সে ওএমআর শিট জালিয়াতিতে জড়িত থাকে, তবে এই ঘটনায় আমি লজ্জিত। তবে আমি এখনও এই অভিযোগ বিশ্বাস করি না। কিন্তু আমার কারণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে পার্টির লড়াই যেন দুর্বল না হয়, তাই আমি ইস্তফা দিচ্ছি।" আগামী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক চক্রান্ত করে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে হাওয়া তৈরি করতেই এই পদক্ষেপ বলে পাল্টা সুর চড়িয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।