পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: প্রাথমিক ও উচ্চপ্রাথমিক স্তরে কর্মরত শিক্ষকদের টেট নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করল রাজ্য সরকার। কবে এই পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব, তা স্কুল সার্ভিস কমিশন এবং প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের কাছে জানতে চেয়েছে স্কুলশিক্ষা দফতর। পর্ষদ সূত্রের খবর, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ২০২৮ সালের অগস্টের মধ্যে এই পরীক্ষা নিতে হবে এবং দ্রুত তারা দিনক্ষণ স্থির করে দফতরকে জানাবে।

শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষকতার জন্য টেট পাশ করা বাধ্যতামূলক।

যাঁরা এখনও এই পরীক্ষা উত্তীর্ণ নন, তাঁদের ২০২৮ সালের মধ্যে তা পাশ করতে হবে। তবে যাঁদের অবসরের আর পাঁচ বছর বা তার কম সময় বাকি, তাঁরা এই নিয়মের বাইরে থাকবেন। রাজ্য সরকারের এই তৎপরতার খবর প্রকাশ্যে আসতেই কর্মরত প্রায় নব্বই হাজারেরও বেশি শিক্ষকের মধ্যে চরম আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যাঁরা টেট-এ বসার ন্যূনতম যোগ্যতা রাখেন না বা পাশ করতে পারবেন না, তাঁদের চাকরি থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শিক্ষকদের একাংশের যুক্তি, রাজ্যে ২০১১ সালে টেট বাধ্যতামূলক হওয়ার আগে যাঁরা চাকরিতে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের এই নিয়মের আওতার বাইরে রাখা হোক। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এ বিষয়ে দায়ের করা নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির একটি রিভিউ পিটিশনও বহাল রাখেনি। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল অভিযোগ করেছেন, বর্তমান রাজ্য সরকার ক্ষমতায় আসার আগে কর্মরত শিক্ষকদের টেট দিতে হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও, এখন তারা কথা রাখছে না। অন্যদিকে, নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ধ্রুবশেখর মণ্ডল সরকারে কাছে অনুত্তীর্ণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি, এই নিয়মের বিরুদ্ধে তাঁদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।