পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: তেলঙ্গানা বিধানসভার অধ্যক্ষ জি. প্রসাদ কুমারকে হেনস্থা, পুলিশের সঙ্গে বিআরএস বিধায়কদের সংঘর্ষ এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কে. চন্দ্রশেখর রাও (কেসিআর)-এর ফার্মহাউসে বিতর্কিত 'শুদ্ধিকরণ' আচার নিয়ে রাজ্যজুড়ে তোলপাড় চলছে। বুধবার এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলোর তীব্র নিন্দা করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ. রেবন্ত রেড্ডি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে দলিত নির্যাতন প্রতিরোধ আইন সহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা কেসিআর-এর বিরুদ্ধে জাতিগত ও সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতা প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তুলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন।

সম্প্রতি দলিত গোষ্ঠীগুলো গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণভাবে কেসিআর-এর ফার্মহাউসের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, আলোচনার জন্য তাদের ডাকার পরিবর্তে, দলিতদের প্রস্থানের পর ফার্মহাউস চত্বরে 'শুদ্ধিকরণ' অনুষ্ঠান করা হয়। এটি সামগ্রিকভাবে দলিত সম্প্রদায়ের প্রতি চরম অপমান। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "দলিতরা যে মাটিতে হেঁটেছেন, তা যদি তারা শুদ্ধ করেন, তবে নিজেদের মনের গভীরে প্রোথিত অস্পৃশ্যতা তারা কীভাবে পরিষ্কার করবেন?
"  তিনি এতটাই ক্ষুব্ধ ছিলেন, রাজনৈতিক ভাষণে কেসিআর-এর পরিবারের সামাজিক বয়কটের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন, যাতে জাতিগত বৈষম্যের শিকার হওয়া মানুষদের যন্ত্রণা তারা উপলব্ধি করতে পারেন।
 
বিধানসভার ভেতরে অধ্যক্ষ এবং অন্যান্য আধিকারিকদের প্রতি চরম উস্কানিমূলক ভাষা প্রয়োগের ঘটনাকে মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি অত্যন্ত কড়া ভাষায় নিন্দা করেছেন। তিনি এই ঘটনাকে আজমল কসাবের হামলা, সংসদ ভবন হামলা এবং পুলওয়ামায় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর জঙ্গি হামলার সঙ্গে তুলনা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
 
রেবন্ত রেড্ডি অভিযোগ করেন, গত এক দশকে নিজেদের শাসনকালে হওয়া দুর্নীতি ফাঁসের ভয়েই বিআরএস বিধানসভার কাজে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। তিনি অধ্যক্ষকে আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার সম্পূর্ণভাবে তাঁর পাশে আছে এবং অভিযুক্তদের রাজনৈতিক প্রভাব তাদের বাঁচাতে পারবে না। তেলঙ্গানার সমাজ কোনোভাবেই এই ধরনের জাতিগত বৈষম্য, সহিংসতা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আক্রমণ বরদাস্ত করবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।