২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্ণ হলো আজ। দিনটি স্মরণে নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটনের ‘গ্রাউন্ড জিরোতে’ বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তবে অনুষ্ঠানে থাকছেন না বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউইয়র্কের পরিবর্তে ভার্জিনিয়ার পেন্টাগনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন তিনি।

গ্রাউন্ড জিরোর স্মরণ অনুষ্ঠানে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাশাপাশি সাবেক চার প্রেসিডেন্ট—জর্জ ডব্লিউ বুশ, বিল ক্লিনটন, বারাক ওবামা ও জো বাইডেনের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তৃতা হবে না।

নিহতদের পরিবারের সদস্যরা একে একে ২ হাজার ৯৭৭ জনের নাম পাঠ করবেন। হামলার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো স্মরণ করে বাজানো হবে ঘণ্টাও।

২০০১ সালের ওই দিনে আল-কায়েদার ১৯ সদস্য চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে। দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারের ভবনে আঘাত হানে। তৃতীয় বিমানটি পেন্টাগনে আছড়ে পড়ে। আর যাত্রীদের প্রতিরোধের মুখে চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলের কাছে একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়।

হামলায় সরাসরি নিহত হন ২ হাজার ৯৭৭ জন।

তবে ৯/১১-এর ক্ষত সেখানেই থেমে থাকেনি। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধসে পড়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে বিষাক্ত ধুলো ও দূষিত পদার্থ ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাবে বহু মানুষ ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হন। হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রোগে এখন পর্যন্ত আরও ৯ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসায় গঠিত একটি ফেডারেল কর্মসূচির হিসাবে জানা গেছে।

সম্প্রতি লোয়ার ম্যানহাটনের বাতাসে বিষাক্ত পদার্থের মাত্রা সম্পর্কে নগর কর্তৃপক্ষ কী জানত, সে বিষয়ে হাজার হাজার নথি প্রকাশ করেছেন নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি।

তাঁর অভিযোগ, মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছিল, কারণ তৎকালীন নেতারা তাদের নিরাপদ থাকার আশ্বাস দিলেও বিষাক্ত বাতাসের প্রকৃত পরিস্থিতি জানাননি।

এদিকে ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে নিউইয়র্কে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ৯/১১ মেমোরিয়াল অ্যান্ড মিউজিয়াম এলাকায় সিক্রেট সার্ভিসের পাশাপাশি নিউইয়র্ক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে অ্যান্টি-ড্রোন দলও থাকবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ। তবে অনুষ্ঠান ঘিরে নির্দিষ্ট কোনো হামলার হুমকির তথ্য নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বার্ষিকী উপলক্ষে নিউইয়র্ক হারবারের আকাশেও আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ ড্রোন শো। ২ হাজার ৯৭৭টি আলো দিয়ে স্মরণ করা হয়েছে হামলায় নিহত প্রতিটি মানুষকে।