আবদুল ওদুদ : মালদা জেলার মানিকচক বিধানসভা কেন্দ্রের ভূতনি চর এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। বন্যা পরিস্থিতি ঘুরে দেখে এসে মালদার মোথাবাড়ির বিধায়ক মাওলানা নজরুল ইসলাম জানান,১৯৯৮ সালের ঐতিহাসিক ও প্রলয়ংকরী বন্যার ভয়াবহতাকেও এবার ছাপিয়ে গেছে পরিস্থিতি। ভূতনি দ্বীপের চারপাশে নদী তীরবর্তী প্রায় ১৪টি বাঁধের অধিকাংশই ক্ষতিগ্রস্ত ও ধসে পড়ায় গঙ্গার জল হু-হু করে জনবসতিতে ঢুকে পড়েছে। এর ফলে ভূতনি  এলাকার ৩টি গ্রাম পঞ্চায়েতই পুরোপুরি জলের তলায় চলে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রায় ২ লক্ষ মানুষ সম্পূর্ণভাবে জলবন্দি হয়ে অসহায় দিন কাটাচ্ছেন।
এলাকার ভৌগোলিক চিত্র কার্যত বিপর্যস্ত।

ঘরবাড়ি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, একাধিক বিদ্যালয় এমনকী স্থানীয় থানাও এখন বন্যার জলে নিমজ্জিত। গত বুধবার ভূতনি চরের বিভিন্ন এলাকা নৌকায় করে পরিদর্শন করেন নজরুল ইসলাম। তিনি দেখেন একতলা বাড়ির ছাদ পর্যন্ত জল ছুঁয়েছে; বহু জায়গায় বিদ্যুতের খুঁটির মাথা পর্যন্ত জল উঠে আসায় সমগ্র এলাকা সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন। এর জেরে এলাকায় পানীয় জলের চরম হাহাকার দেখা দিয়েছে। সেইসঙ্গে বানের জলে ভেসে আসা বিষধর সাপের উপoব নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে। শৌচাগারের অভাব এবং চিকিৎসার অভাবে বিশেষ করে প্রসূতি মহিলা, শিশু ও বয়স্কদের অবস্থা অবর্ণনীয় হয়ে উঠেছে।
অনেকে কোনওমতে বাড়ির ছাদে বা মাচায় আশ্রয় নিয়ে আটকে রয়েছেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের তরফ থেকে জোরকদমে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। মথুরাপুরে একটি বড় ত্রাণ শিবির  খোলা হয়েছে, যেখানে রান্না করা খাবার সরবরাহ এবং আশ্রয়হীন মানুষদের রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নৌকার মাধ্যমে জলবন্দি পরিবারগুলিকে উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে। প্রশাসনিক প্রতিনিধি দল আকাশপথে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির সামগ্রিক চিত্র পরিদর্শন করেছেন।
এ দিকে দুর্গত মানুষের করুণ পরিস্থিতি দেখে সর্বাত্মক ত্রাণের উদ্যোগ নিয়েছে প্রখ্যাত শিল্পপতি মোস্তাক হোসেনের নেতৃত্বাধীন ‘পতাকা’ শিল্পগোষ্ঠী।
স্থানীয় বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল এবং জেলা পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় রেখে এই ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে রান্না করা সম্ভব না হওয়ায় মানুষের কাছে শুকনো ও পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়াকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এর জন্য হাজার হাজার বিশেষ ফুড প্যাকেট প্রস্তুত করার কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে।
প্রতিটি ত্রাণ প্যাকেটে বরাদ্দ করা হয়েছে ৫ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু, ১ কেজি মসুর ডাল, ১ লিটার ভোজ্যতেল, ২ কেজি চিঁড়ে, ১ কেজি চানাচুর এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ বিßুñট। যেখানে নৌকা পৌঁছনো সম্ভব, সেখানে কর্মীদের মাধ্যমে সরাসরি জলবন্দি মানুষদের হাতে এই প্যাকেট তুলে দেওয়া হবে। নজরুল ইসলাম আরও জানান, মানিকচকে অবস্থিত সংস্থার আঞ্চলিক কার্যালয় থেকেও সাধারণ মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হবে। শুধু তাৎক্ষণিক খাদ্য সহায়তাই নয়, বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনের আশ্বাসও দিয়েছে এই শিল্পগোষ্ঠী। সংস্থার চেয়ারম্যান মোস্তাক হোসেন স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, বন্যার জল নেমে যাওয়ার পর যে সমস্ত পরিবারের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাদের বাড়িঘর মেরামতের জন্যও পতাকা শিল্পগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে যাবতীয় আর্থিক ও সামগ্রিক সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়েছে।