পুবের কলম ওয়েবডেস্ক, দামাস্কাসের সাবেক সামরিক বিমানঘাঁটি মেজ্জেহকে ব্যক্তিগত ও নির্বাহী বিমান চলাচলের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘিরে সিরিয়ায় তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, উন্নয়নকাজের নামে বিমানবন্দর চত্বরে থাকা সম্ভাব্য গণকবর নষ্ট হতে পারে। একই সঙ্গে কয়েক দশক আগে অধিগৃহীত জমির মালিকানার দাবিও নতুন করে সামনে এসেছে।
আরও পড়ুন:
সিরিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ গত সপ্তাহে জানিয়েছে, মেজ্জেহ বিমানঘাঁটিকে সীমিত বেসামরিক ব্যবহারের জন্য পুনর্গঠনের প্রস্তুতি চলছে।
দামাস্কাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশাপাশি সেখানে ব্যক্তিগত ও নির্বাহী বিমান চলাচলের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে ধ্বংসাবশেষ সরানো ও পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে।আরও পড়ুন:
তবে মেজ্জেহ বিমানঘাঁটির অতীতই তৈরি করেছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। বাশার আল-আসাদ ও তাঁর বাবা হাফেজ আল-আসাদের শাসনামলে সেখানে বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা দফতর ও একাধিক আটককেন্দ্র ছিল।
সিরিয়া জাস্টিস অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি সেন্টারের নথি অনুযায়ী, ২০১২ সাল থেকে সেখানে বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।আরও পড়ুন:
সংস্থাটির ২০২৫ সালের তদন্তে মেজ্জেহে আটক অবস্থায় ১,১৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর তথ্য উঠে আসে। এর মধ্যে নির্যাতন, অমানবিক আচরণ ও মৃত্যুদণ্ডের ঘটনাও ছিল। বিমানবন্দর চত্বরে দুটি সম্ভাব্য গণকবরের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়ে গত বছর কর্তৃপক্ষকে নির্মাণকাজ বন্ধ রেখে তদন্তের অনুরোধ করা হয়েছিল।
নতুন করে উন্নয়ন পরিকল্পনা সামনে আসার পর ৮ সেপ্টেম্বর আবার সতর্ক করা হয়, কারণ খনন বা ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজে মানবদেহাবশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট হতে পারে।আরও পড়ুন:
এদিকে জমির মালিকানাও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। নথি অনুযায়ী, ২ দশমিক ৭৬ বর্গকিলোমিটার এলাকায় গড়ে ওঠা বিমানঘাঁটির জমি একসময় শত শত ব্যক্তির মালিকানাধীন ছিল। স্থানীয়দের দাবি, ১৯৫৬ সালে জমি অধিগ্রহণের পরও তাঁদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। পরিকল্পনা ঘোষণার পর মুআদামিয়ায় বিক্ষোভও হয়েছে। বাসিন্দাদের বক্তব্য, বিনিয়োগকে তাঁরা স্বাগত জানান, তবে জমির মালিক হিসেবে আলোচনার টেবিলে তাঁদেরও থাকতে হবে।