পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: শনিবার রাজারহাট গোপালপুরে একটি গণেশপুজোর উদ্বোধনে গিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সে দেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কারাবন্দি সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের মায়ের শেষকৃত্যে প্যারোলে মুক্তির প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন পশ্চিমবঙ্গ তৈরির নেপথ্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং স্বামী প্রণবানন্দের অবদানের কথা। রাজ্যের পূর্বতন বাম ও তৃণমূল সরকার এই ঐতিহ্য ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে তিনি কড়া আক্রমণ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বামেরা। বিজেপিকে বিঁধতে তারা উমর খলিদ এবং স্ট্যান স্বামীর বন্দিদশার কথা তুলে ধরেছে।

মায়ের শেষকৃত্যে যোগ দিতে সম্প্রতি চট্টগ্রাম আদালত থেকে মাত্র পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিলেন বাংলাদেশে জেলবন্দি চিন্ময়কৃষ্ণ। সেই প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ওই সন্ন্যাসীর চোখের জল গোটা পৃথিবীর সনাতনীদের হৃদয় নাড়িয়ে দিয়েছে। তাঁর দাবি, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং স্বামী প্রণবানন্দের লড়াইয়ের জেরে পশ্চিমবঙ্গ তৈরি না হলে, এখানকার হিন্দুদের অবস্থাও আজ চিন্ময়কৃষ্ণের মতোই হত। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বিগত বাম এবং তৃণমূল সরকার রাজ্যের হিন্দু ঐতিহ্যকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। আসন্ন দুর্গাপুজো নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সম্পূর্ণ পঞ্জিকা মেনেই সমস্ত আচার পালিত হবে।

পিতৃপক্ষে পুজোর উদ্বোধন হবে না এবং অষ্টমীর দিন সব মদের দোকান বন্ধ থাকবে। দুর্গাপুজোকে ‘শারদোৎসব’ বলা এবং বামেদের মণ্ডপের বাইরের বইয়ের স্টলে মার্কসীয় সাহিত্য বিক্রি নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরেই পাল্টা আক্রমণ শানায় সিপিএম। বাম নেতা কলতান দাশগুপ্ত জানান, বামপন্থীরা চিরকালই যেকোনো দেশে সংখ্যালঘুদের অধিকারের পক্ষে সরব। পাশাপাশি তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ তোলেন।

তাঁর দাবি, বাংলাদেশে চিন্ময়কৃষ্ণকে দেশদ্রোহী তকমা দিয়ে বন্দি রাখার প্রতিবাদ করলেও এ দেশে উমর খলিদ বা স্ট্যান স্বামীকেও ঠিক একই ভাবে দেশদ্রোহী তকমা দিয়ে জেলে আটকে রেখেছে বর্তমান সরকার। অসুস্থ স্ট্যান স্বামী তো কারাগারেই মারা গিয়েছেন।
অন্যদিকে, পুজোয় বইয়ের স্টল এবং ‘শারদোৎসব’ লেখা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ফতোয়ার কড়া সমালোচনা করেছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। তিনি মনে করিয়ে দেন, শারদোৎসব শব্দটি স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবহার করা। তাঁর কথায়, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কখনোই ঠিক করে দিতে পারেন না সাধারণ মানুষ কী খাবে, কী বই পড়বে বা উৎসবের কী নাম দেবে। বাম নেতারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর কোনো শর্ত না মেনে বিগত বছরগুলির মতোই এ বছরও তাঁরা নিজেদের নিয়মে মণ্ডপের বাইরে বইয়ের স্টল দেবেন।