পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দীর্ঘ এক ঘণ্টা কুড়ি মিনিটের বৈঠক শেষে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকের অধিকার সংক্রান্ত বিবাদের চূড়ান্ত শুনানিতে কমিশনের দপ্তরে উপস্থিত হয় ঋতব্রত শিবির। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অরূপ রায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, আখরুজ্জামানের মতো বর্ষীয়ান নেতা এবং আইনজীবী আমন ঝাঁ। বৈঠক শেষে ঋতব্রত জানান, কমিশনের চাওয়া সমস্ত তথ্য ও নথিপত্র তাঁরা জমা দিয়েছেন এবং যাবতীয় প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তরও দিয়েছেন।

উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁরাই যে দলের আসল প্রতীক পেতে চলেছেন, সেই বিষয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী বিরোধী দলনেতা।
কমিশনের দপ্তর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, তৃণমূলে আর কোনও একনায়কতন্ত্র চলবে না। আগে দলে কোনও গণতান্ত্রিক পদ্ধতি মানা হত না এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একক সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হত। এই প্রসঙ্গে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস কোনও পরিবারের বা কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটি সাধারণ স্তরের কর্মীদের দল।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বিরোধী দলনেতা যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এই কড়া সমালোচনা করছিলেন, তখন তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দলের পুরনো নেতা-নেত্রীরাও নিঃশব্দে তাঁর কথায় সমর্থন জোগান।
আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। স্বাভাবিকভাবেই বিবদমান দুই শিবিরই চাইছে ওই দিনের আগেই দলের প্রতীক সংক্রান্ত এই আইনি জটিলতার পাকাপাকি অবসান হোক। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাঁরা নিছক মনগড়া কথা না বলে উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে কমিশনের কাছে নিজেদের দাবি পেশ করেছেন এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আরজি জানিয়েছেন। তবে নির্বাচন কমিশন কবে তাদের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবে, তা এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।