পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: আদালতের বারবার নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও উত্তরপ্রদেশ সরকার 'গুন্ডা আইন'-কে নিরপরাধ মানুষের ওপর "পীড়নের হাতিয়ার" হিসেবে ব্যবহার করে চলেছে বলে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। অভ্যাসগত অপরাধীদের দমন করার উদ্দেশ্যে তৈরি এই আইনের অপব্যবহার নিয়ে এক মামলার শুনানিতে বৃহস্পতিবার এই কড়া পর্যবেক্ষণ পেশ করেন বিচারপতি সুভাষ বিদ্যার্থী।
আরও পড়ুন:
গোন্ডা জেলার জেলাশাসক কর্তৃক জাহিদ আলি নামে এক ব্যক্তিকে ‘গুন্ডা’ ঘোষণা করা এবং ছয় মাসের জন্য জেলা ছাড়ার নির্দেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি রিট আবেদনের শুনানিতে হাইকোর্ট জেলাশাসকের ওই নির্দেশ খারিজ করে দেয়।
আরও পড়ুন:
বিচারপতি সুভাষ বিদ্যার্থী তাঁর পর্যবেক্ষণে জানান, গুন্ডা দমন আইনটি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি আইনি অস্ত্র, যা কেবল সুনির্দিষ্ট ও জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের মতো বিরল ক্ষেত্রগুলোতেই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করা উচিত।
আদালত স্পষ্ট করে দেয়, কোনো ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত না করে বা কোনো বড় অপরাধ ছাড়াই শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই আইন তৈরি হয়নি। অভ্যাসগত অপরাধ দমনই এর মূল উদ্দেশ্য।আরও পড়ুন:
জাহিদ আলির বিরুদ্ধে যে দুটি মামলার ওপর ভিত্তি করে পুলিশ তাঁকে 'গুন্ডা' ঘোষণা করেছিল, তার একটিতে তিনি আগেই বেকসুর খালাস পেয়েছেন। আদালত জানায়, যে মামলায় একজন ব্যক্তি খালাস পেয়েছেন, সেটিকে ভিত্তি করে কাউকেই ‘গুন্ডা’ আখ্যা দেওয়া যায় না। ট্রাইব্যুনাল বা পুলিশ প্রশাসনের নথিতে জাহিদ আলি জনশৃঙ্খলার জন্য কোনো হুমকি সৃষ্টি করেছিলেন— এমন কোনো অভিযোগের উল্লেখও পাননি বিচারক।