পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: আদর্শগত বৈরিতা ও দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী রাজনৈতিক ইতিহাস সত্ত্বেও রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হচ্ছে এক নতুন সমীকরণ। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে রুখতে নিচুতলায় বাম ও তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এক ‘অলিখিত সমঝোতা’ গড়ে উঠছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ফলতায় এমন বোঝাপড়ার প্রথম ইঙ্গিত মেলার পর, আসন্ন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন এবং পুরভোটেই এই রসায়নের আসল পরীক্ষা হতে চলেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত ১৫ বছরের তৃণমূল জমানায় বাম কর্মীদের উপর নানা অত্যাচারের অভিযোগ উঠলেও ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তৃণমূল এখন সাংগঠনিক ভাবে দুর্বল ও কার্যত দুই শিবিরে বিভক্ত।

এই পরিস্থিতিতে বিজেপির বিরুদ্ধে কার্যকর রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে তৃণমূলের ভোটের একটি বড় অংশ, বিশেষ করে বাংলাভাষী সংখ্যালঘু ভোট, বামেদের দিকে সরে যেতে পারে। রাজ্যে পালাবদলের পর প্রথম দিকে সংখ্যালঘু ভোটের একটি অংশ বিজেপিমুখী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা গেলেও, পরবর্তী সময়ে আরএসএস ও তাদের বিভিন্ন সংগঠনের সক্রিয়তায় সংখ্যালঘু সমাজের একাংশের মধ্যে তৈরি হওয়া নিরাপত্তাহীনতার কারণেই এই পরিবর্তনের সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে।

উভয় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রকাশ্যে সমঝোতার বিরোধিতা করলেও নিচুতলার বহু কর্মী-সমর্থকের কাছে এই মুহূর্তে প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে বিজেপি। ফলে নেতাদের কড়া নির্দেশকে উপেক্ষা করে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন এবং আসন্ন পুরভোটে নিচুতলার এই নতুন সমীকরণ ব্যালট বাক্সে কতটা কার্যকর প্রভাব ফেলতে পারে, এখন সে দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।