‘এক দশকের মধ্যেই পৃথিবীকে মানবশূন্য করে দিতে পারে এআই’—গবেষক জ্যাকব কক্সনের এমন আশঙ্কার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ নিয়ে ফের সতর্ক করলেন অ্যানথ্রোপিকের সিইও দারিও আমোদেই। তাঁর বক্তব্য, অকল্পনীয় গতিতে এগোচ্ছে এআই। তাই এখনই অত্যাধুনিক এআই গবেষণার গতি কিছুটা কমিয়ে নিরাপত্তা ও নজরদারির ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।

আমোদেইয়ের এই বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান এবং স্পেসএক্স ও এক্সএআইয়ের প্রধান এলন মাস্ক।

অল্টম্যানের মতে, এআইয়ের দ্রুত বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সরকার ও প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে একসঙ্গে কাজ করার পথ খুঁজতে হবে। মাস্কও দীর্ঘদিন ধরে এআইয়ের সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে সতর্ক করে আসছেন বলে জানিয়েছেন। তবে তাঁদের বিপরীত সুর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তাঁর দাবি, ‘নেতিবাচক শক্তি’ মানুষকে অযথা ভয় দেখাচ্ছে।

এআইয়ের নিজে নিজে উন্নত হয়ে ওঠার ক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। মানুষের সরাসরি নির্দেশ ছাড়াই কোডিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর মতো প্রযুক্তি নিয়ে গবেষকদের মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন এআই মডেলের অনিয়ন্ত্রিত আচরণ এবং ওয়েবসাইটে অনুপ্রবেশের ঘটনাও সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এআইয়ের ক্ষমতা আরও বাড়লে ভবিষ্যতে সাইবার হামলা থেকে শুরু করে জৈব অস্ত্র তৈরির মতো ভয়াবহ কাজে এর অপব্যবহার হতে পারে। তাই এআই গবেষণা থামানো নয়, বরং তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে শক্তিশালী নিরাপত্তাবিধি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পক্ষেই জোর দিচ্ছেন প্রযুক্তি জগতের একাংশ। তাঁদের মতে, এখনই সতর্ক না হলে ভবিষ্যতে এআইয়ের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।