লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়েমেনের বন্দরনগরী মোখা পতনের পর হুতিদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর সরাসরি সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তাইজ শহরের কাছে কাধা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। একইসঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মারিবের দিকেও হুতিরা অগ্রসর হওয়ায় সেখানে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। মারিব হুতিদের দখলে গেলে উত্তর ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরবেও হামলা জোরদার করেছে বলে দাবি করেছে।

রবিবার সৌদির দক্ষিণাঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করে তারা। হুতিদের দাবি, ৪৮ ঘণ্টায় তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৌদি বাহিনী ১২৯টি বিমান হামলা চালিয়েছে। তাইজ ও মারিবের কাছেও হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালির কাছেও উত্তেজনা বেড়েছে। ইরানের দাবি, কাসেম দ্বীপের কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে।

এতে একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার ওমানে উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা ইরানের। তবে বাহরাইন জানিয়েছে, তারা ওই বৈঠকে অংশ নেবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানিয়েছেন, হরমুজ নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলির বৈঠক তাদের নিজেদের বিষয়।

এদিকে জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থার দাবি, জুলাই থেকে ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর প্রায় ৭৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

এর মধ্যে চলতি সপ্তাহেই দুই হাজারের বেশি মানুষ লোহিত সাগরের পশ্চিম তীর থেকে জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছেন।

ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয় ২০১৪ সালে। ওই বছর হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে। ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেন সরকারের সমর্থনে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর সংঘাত কিছুটা কমলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ফের পূর্ণমাত্রার গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারপন্থী বাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব হুতিদের দ্রুত অগ্রযাত্রার অন্যতম কারণ। ফলে মোখা ও পশ্চিম উপকূলে হুতিদের মোকাবিলা করা সরকারি বাহিনীর জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।