পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: প্রথম চুক্তির অধীন একটি যুদ্ধবিমানও ভারতীয় বিমানবাহিনীর (আইএএফ) হাতে পৌঁছায়নি, অথচ তার মধ্যেই দ্বিতীয় দফার ৯৭টি স্বদেশি 'তেজস এলসিএ মার্ক-১এ' বিমান সরবরাহের সময়সূচি ঘোষণা করল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। মন্ত্রকের সদ্য প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই ৯৭টি যুদ্ধবিমান ভারতীয় বিমানবাহিনীতে যুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। গত বছর সেপ্টেম্বরে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (হ্যাল)-এর সঙ্গে ৬২,৩৭০ কোটি টাকার এই দ্বিতীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার অধীনে ৬৮টি সিঙ্গল-সিটার এবং ২৯টি টুইন-সিটার যুদ্ধবিমান তৈরি করা হবে।
 
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের নির্ধারিত সময়সীমা বাস্তবায়ন নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, কারণ এইচএএল (হ্যাল) তাদের প্রথম চুক্তির বিমান সরবরাহের নির্ধারিত সময়সীমা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৪৮,০০০ কোটি টাকার যে প্রথম চুক্তি হয়, তার আওতায় থাকা ৮৩টি তেজস মার্ক-১এ বিমানের একটিও এখনও বিমানবাহিনীকে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি। ২০২৪ সালের মার্চ থেকে যেখানে হস্তান্তরের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল, তা পিছিয়ে ২০৩১ সালে গিয়ে ঠেকেছে। মার্কিন সংস্থা জেনারেল ইলেকট্রিক থেকে F404 IN20 ইঞ্জিন সরবরাহ স্তব্ধ হওয়া, সফটওয়্যার ভ্যালিডেশনের জটিলতা এবং রাডার পরীক্ষার ত্রুটির কারণে পুরো প্রকল্পটি পিছিয়ে যায়। এইচএএল চেয়ারম্যান রবি কোটা সংস্থার অর্থবর্ষের ফলাফলের বৈঠকে জানান, ইঞ্জিন সরবরাহ স্বাভাবিক হলেই ২০২৬ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিমান হস্তান্তর শুরু করা যাবে।

 
বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর অনুমোদিত স্কোয়াড্রন সংখ্যা ৪২.৫ হলেও বাস্তবে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৯টিতে— যা গত ছয় দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছর সেপ্টেম্বরে মিগ-২১ বাইসনের শেষ দুটি স্কোয়াড্রন অবসর নেওয়ায় বহরের এই শূন্যতা আরও প্রকট হয়েছে। বার্ষিক প্রতিবেদনে কেবল বিমান সরবরাহই নয়, বরং সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর যৌথ কার্যক্ষমতা এবং 'থিয়েটার-াইজেশন'-এর অগ্রগতি তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যৌথ সামরিক লক্ষ্যমাত্রার ২৯ শতাংশ এবং যৌথ সামরিক কৌশলের ৩৫ শতাংশ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। 'অপারেশন সিন্ধুর'-এর সফল প্রয়োগ তিন বাহিনীর সমন্বিত লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তাকে স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছে।