পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: দাড়ি রাখার অনুমতি চেয়ে কলকাতা পুলিশের প্রায় অর্ধ শতাধিক কর্মীর আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা পুলিশ কর্তৃপক্ষ। আবেদনকারীদের তালিকায় বিভিন্ন ব্যাটালিয়ন, রিজার্ভ ফোর্স, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট এবং ট্রাফিক পুলিশসহ একাধিক ইউনিটে কর্মরত পুলিশকর্মীরা রয়েছেন। চলতি বছরের ৪ সেপ্টেম্বর কলকাতা পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় থেকে জারি করা একটি মেমো থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
আরও পড়ুন:
মোট ৪৭ জন পুলিশকর্মী স্বেচ্ছায় দাড়ি রাখার অনুমতি চেয়ে আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাদের সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যদি তারা তাদের চাকরি বজায় রাখতে চান, তবে তাদের অবশ্যই দাড়ি কাটতে হবে। পুলিশ কর্মকর্তাদের যুক্তি অনুযায়ী, বাহিনীর পোশাক এবং চেহারায় অভিন্ন একরূপতা বজায় রাখার স্বার্থেই এই দাড়ি কাটার নিদান জারি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
মেমোটিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কলকাতা পুলিশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী দাড়ি রাখার ক্ষেত্রে যে বিধিনিষেধ রয়েছে, তা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। সেই মেমোর প্রথম পাতায় ৩০ জন এবং দ্বিতীয় পাতায় আরও ১৭ জন মুসলিম কর্মীর নাম রয়েছে। মেমো অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ইউনিটের প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা আবেদনকারীদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন এবং এই নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করেন। এই নির্দেশে স্বাক্ষর করেছেন কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার (হেড কোয়ার্টার্স)।
আরও পড়ুন:
জানা গেছে, দাড়ি কেটে ফেলার নির্দেশে পুলিশের যে সমস্ত কর্মীরা দাড়ি রেখেছিলেন, তারা অত্যন্ত মনকষ্টে আছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশ কর্মীই ধর্মীয় কারণে এবং নবী মুহাম্মদ সা.-এর অনুসরণে সুন্নাহ পালন করার জন্য দাড়ি রেখেছিলেন। অনেকে আবার পবিত্র হজ সম্পন্ন করে এসে সুন্নাহ পালনের উদ্দেশ্যে দাড়ি রাখা শুরু করেছিলেন।
আরও পড়ুন:
ভারতীয় সংবিধানে প্রত্যেক জাতি-গোষ্ঠী এবং ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষদের নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া রয়েছে। যদি কেউ ধর্ম পালন করতে চান এবং তা যদি অযৌক্তিক কোনো বিষয় না হয়, তবে তাতে বাধা প্রদান করা যায় না। শিখ ধর্মের অনুসারী মানুষজন শুধু পুলিশ নয়, ভারতীয় সেনাবাহিনীতেও বিরাট সংখ্যায় কাজ করছেন। তাদের দাড়ি রাখায় কেউ কোনো বাধা দিতে পারে না। দাড়ি রেখেই তারা ভারতের পুলিশ, আধা সামরিক বাহিনী ও সামরিক বাহিনীতে গর্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দাড়ি রাখা, বড় চুল এবং পাগড়ি পরিধান করার কারণে দায়িত্ব পালন কিংবা যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের কোনো অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়েছে, এমন অভিযোগ আজ পর্যন্ত কেউ তুলতে পারেনি।
আরও পড়ুন:
পুলিশ, আধা সামরিক ও সামরিক বাহিনীর কর্মীরা বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং মালদ্বীপসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে দাড়ি রেখেই পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন।
এর ফলে কাজের কোনো ক্ষতি হয়েছে, এমন কোনো রিপোর্ট কোথাও পাওয়া যায়নি। এছাড়া শিখ ধর্মের মানুষের প্রতি দাড়ি না রাখার নিয়ম কার্যকর নয়। যদি সংখ্যালঘু শিখরা দাড়ি রাখতে পারেন, তাহলে মুসলিমদের সঙ্গে কেন ভিন্ন আচরণ করা হচ্ছে এবং সংবিধানের ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারকে খর্ব করা হচ্ছে, তার কোনো সদুত্তর কর্তৃপক্ষের কাছে নেই।আরও পড়ুন:
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট যে, যে সমস্ত মুসলিম কনস্টেবল ও অফিসাররা শুধুমাত্র রুজি-রোজগার হারানোর ভয়ে দাড়ি কাটতে বাধ্য হচ্ছেন, তাদের মনোবল যে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। যারা এতদিন দাড়ি রেখে এসেছেন, নতুন নির্দেশিকার ফলে তারা দাড়ি কাটতে বাধ্য হওয়ায় অনেকেই ডিপ্রেশন ও মানসিক অবসাদে ভুগছেন। ধর্মীয় স্বাধীনতার দেশ ভারতে এবং পশ্চিমবঙ্গের ধর্মনিরপেক্ষ আবহে এভাবে কারো ধর্মীয় অধিকারে হস্তক্ষেপ করা সঠিক নয় বলে মুসলিম বুদ্ধিজীবী ও আলেমরা মনে করেন। তাঁদের মতে, সরকারের উচিত হবে দাড়ি রাখার আবেদন খারিজ করে যে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, তা পুর্নবিবেচনা করা।