পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: দীর্ঘ তিন বছর পেরিয়ে গেলেও হিংসার আগুন নিভছে না মণিপুরে। রবিবার তামেংলং জেলার দু’টি পৃথক গ্রামে অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের জোড়া হামলায় মৃত্যু হয়েছে চার জন গ্রামবাসীর। হামলায় গুরুতর জখম হয়েছে ছয় বছরের এক শিশু এবং আরও এক মহিলা নিখোঁজ রয়েছেন। এই নারকীয় হামলার পিছনে সশস্ত্র নাগা গোষ্ঠীর হাত রয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছে কুকি সংগঠনগুলি।
পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার ভোররাতে তামেংলংয়ের তোলেন গ্রামে একটি বাড়িতে ঢুকে এক দম্পতি ও তাঁদের ছয় বছরের ছেলেকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় বন্দুকবাজেরা। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ওই দম্পতির মৃত্যু হয় এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে তাঁদের সন্তানটি। এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুপুর ৩টে নাগাদ লংপি গ্রামে দ্বিতীয় হামলাটি ঘটে। বাড়ি ফেরার পথে তিন জনের উপর এলোপাথাড়ি গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়। তৃতীয় এক মহিলাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ঘটনাচক্রে, ১৯৯২ সালের কুকি-নাগা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহতদের স্মরণে প্রতি বছর ১৩ সেপ্টেম্বর দিনটি কুকি সম্প্রদায় ‘ব্ল্যাক ডে’ হিসেবে পালন করে। সেই বিশেষ দিনেই ফের এই হামলার ঘটনা ঘটল।
এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচন্দ সিংহ জানিয়েছেন, নিরীহ মানুষদের উপর এ ধরনের আক্রমণ কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এবং সমাজে এই অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য। ঘটনার পরেই এলাকায় নতুন করে যাতে উত্তেজনা না ছড়ায়, তার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।