পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পরেই সীমান্তে বড়সড় স্বস্তির খবর প্রকাশ্যে এল। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ২০২৫-২৬ সালের বার্ষিক রিপোর্ট অনুযায়ী, দীর্ঘ কূটনৈতিক ও সামরিক আলোচনার পর ২০২৫ সালে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) থেকে উল্লেখযোগ্য হারে সেনা কমিয়েছে চিন। বর্তমানে এলএসি-র ওপারে চিনের ১০টি কম্বাইন্ড আর্মস ব্রিগেড মোতায়েন রয়েছে। মূলত ২০২৫ সালের অক্টোবরে পূর্ব লাদাখে ২৩তম কোর কমান্ডার স্তরের বৈঠকের পরেই বেজিং ধাপে ধাপে এই সেনা প্রত্যাহার শুরু করে। তবে ভারতীয় সেনা নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে এবং যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলায় তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
অন্যদিকে, এই রিপোর্টে জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। গত এক বছরে উপত্যকায় হিংসা ও বিক্ষোভ চোখে পড়ার মতো কমেছে। পাথর ছোড়ার ঘটনা সম্পূর্ণ শূন্যে নেমে এসেছে এবং মাত্র এক জন যুবক নতুন করে জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিয়েছেন। বছরভর নিয়ন্ত্রণরেখায় ৬টি অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে ১২ জন জঙ্গিকে নিকেশ করেছে নিরাপত্তাবাহিনী। তবে কিছুটা উদ্বেগের বিষয় হল, ২০২৪ সালে যেখানে মাত্র দু'বার সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছিল, ২০২৫ সালে তা এক ধাক্কায় বেড়ে ১৬৩টিতে দাঁড়ায়। এর মধ্যে ১২৪টি ঘটনা ঘটে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন।
পাশাপাশি, দেশের পশ্চিম সীমান্তে ড্রোনের অনুপ্রবেশের বিস্তারিত খতিয়ানও এই রিপোর্টে দেওয়া হয়েছে। গত বছর রাজস্থানে ৮৫৪টি ও জম্মু-কাশ্মীরে ৯টি-সহ মোট ৮৬৩টি ড্রোন ঢোকার চেষ্টা করে। তবে সতর্ক জওয়ানরা ২৩৭টি ড্রোন গুলি করে নামাতে সক্ষম হন। সেই ড্রোনগুলি থেকে জোড়া একে-৪৭ রাইফেল, ৭৫টি পিস্তল এবং ২৮১ কেজি বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।