পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: আসন্ন গণেশোৎসবের ব্যস্ত সময়ে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে মারাঠা সংরক্ষণ আন্দোলনের নেতা মনোজ জারান্তে-পাটিলকে মুম্বইয়ে অনশন বিক্ষোভের অনুমতি দিল না পুলিশ। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে আজাদ ময়দানে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন জারান্তে। তবে রবিবার আজাদ ময়দান থানার পদস্থ আধিকারিকদের তরফে ছয় পৃষ্ঠার চিঠি দিয়ে এই আবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, ১৪ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা গণেশোৎসবে শহরজুড়ে প্রচুর ভিড় হয় এবং বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকে।

এই সময়ে বিশাল বড় কোনো সমাবেশের অনুমতি দিলে যানজট ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। গত বছরের আন্দোলনে অনুমোদিত সীমার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি জনসমাগম হওয়ার ফলে ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ টার্মিনাস ও বৃহন্মুম্বই পুরসভা সংলগ্ন এলাকায় তীব্র যানজট তৈরি হয়েছিল বলেও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে মুম্বই পুলিশ।

জালনার অন্তর্বালী সারাতীতে নিজের অনশনের ১৬তম দিনে দাঁড়িয়ে মুম্বই পুলিশের সিদ্ধান্তকে চরম 'একনায়কতন্ত্র' ও 'স্বৈরাচার' বলে ব্যাখ্যা করেছেন মনোজ জারান্তে। তিনি স্পষ্ট জানান, পুলিশের নির্দেশকে আইনি চ্যালেঞ্জ করা হবে।

জারান্তে দাবি করেন, মুম্বই পুলিশের এই পদক্ষেপ বোম্বে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণের পরিপন্থী। গত শুক্রবারই হাইকোর্ট এক জনস্বার্থ মামলায় জরুরি কোনো নির্দেশ দিতে অস্বীকার করে জানায়, প্রতিবাদের অধিকার সবার রয়েছে এবং কেবল আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কায় কাউকে আগেই আটকানো যায় না।

পুলিশের নিষেধাজ্ঞার জবাবে জারান্তে ঘোষণা করেন, ১৫ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই তাঁর মুম্বই অভিযান শুরু হবে। প্রতিবাদ হিসেবে তিনি চিকিৎসা ও জল গ্রহণ বন্ধ করে দেবেন। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস ও উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডেকে সরাসরি নিশানা করে তিনি বলেন, "উৎসবের মরসুমে আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে বানচাল করতে সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চক্রান্ত করছে।"