পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: খড়গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বুশরা বানোকে বদলি করে তাঁর জায়গায় পার্থ ঘোষকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২১ ব্যাচের আইপিএস আধিকারিক বুশরাকে রাজ্য সশস্ত্র বাহিনীর চতুর্থ ব্যাটালিয়নের ডেপুটি কমান্ডান্ট পদে পাঠানো হয়েছে। নবান্ন এই বদলিকে রুটিন হিসেবে আখ্যা দিলেও, এর নেপথ্যে বুশরার সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা একটি ভিডিও নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ককেই মূল কারণ হিসেবে দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।
সম্প্রতি পুলিশের উর্দিতে থাকা অবস্থায় একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন বুশরা।

সেখানে তিনি জানান, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক কোচিং অ্যাকাডেমি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ও উচ্চশিক্ষায় কতটা সাহায্য করে এবং প্রাক্তনী হিসেবে তিনি নিজেও কীভাবে উপকৃত হয়েছিলেন। ভিডিওর বক্তব্য নিয়ে কোনও সমস্যা না থাকলেও, শুরু এবং শেষে 'আস্সালামআলেকুম', 'ইনশাল্লা' এবং 'জাজ়াকাল্লাহ'-র মতো শব্দ ব্যবহার নিয়েই বিতর্কের সূত্রপাত।
‘হিন্দু লিগাল ফান্ড’ নামে একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন এক্স হ্যান্ডেলে ওই ভিডিওর ক্লিপিং পোস্ট করে প্রশ্ন তোলে, এক জন সরকারি আধিকারিক সরকারি পদে থেকে এবং উর্দি পরে কীভাবে এই শব্দগুলো ব্যবহার করতে পারেন? তাদের মতে, এর বদলে 'বন্দে মাতরম্' বা 'জয় হিন্দ' ব্যবহার করা উচিত ছিল।
সংগঠনটি এ বিষয়ে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে অভিযোগও দায়ের করেছে। অন্যদিকে, 'মুসলিম আইটি সেল' নামের একটি এক্স হ্যান্ডেল থেকে দাবি করা হয়েছে, সংখ্যালঘু হওয়ার কারণেই বুশরাকে নিশানা করছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো।
উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশের কনৌজের বাসিন্দা বুশরা বানো দুই সন্তানের মা হয়েও পর পর দু'বার ইউপিএসসি-র মতো কঠিন পরীক্ষায় সফল হয়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। এর আগে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করে সৌদি আরবে অধ্যাপনা এবং পরে কোল ইন্ডিয়া ও ভারতীয় রেলেও কাজ করেছেন তিনি।