বিপুল শঙ্কর বসু: দীর্ঘ তিন মাস ধরে চলা চরম অনিশ্চয়তা ও বন্দিদশার অবশেষে অবসান ঘটল। বাংলাদেশি সন্দেহে আটক হওয়া উত্তর দিনাজপুর জেলার করণদিঘির বালিয়ামোরের বাসিন্দা ৬৬ বছর বয়সী জলিল আখতার অবশেষে ইসলামপুর আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেলেন। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তদন্ত প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা করা এবং নিজ এলাকা ছেড়ে অন্য কোথাও না যাওয়ার কঠোর শর্তে আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছে।
আরও পড়ুন:
গত ১৯ জুন রাতে করণদিঘির বালিয়ামোড় এলাকা থেকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে জলিল আখতারকে আটক করেছিল পুলিশ। এরপর তাঁকে প্রথমে ফুলবাড়ি হোল্ডিং সেন্টার ও পরে চাকুলিয়ার ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখার পর জেল হেফাজতে পাঠানো হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথম থেকেই দাবি করা হয়েছিল যে, জলিল আখতার একজন বৈধ ভারতীয় নাগরিক। আদালতে তাঁর ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড ও রেশন কার্ড জমা দেওয়া হলে তদন্তকারী আধিকারিকও সেই নথিগুলির সত্যতা স্বীকার করেছিলেন। তবুও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নথিপত্র চেয়ে পাঠানোয় এতদিন তাঁর মুক্তি ঝুলে ছিল।আরও পড়ুন:
সোমবার ইসলামপুর মহকুমা আদালতে মামলার শুনানিতে জলিল আখতারকে দীর্ঘক্ষণ কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন বিচারক। তাঁর জন্মস্থান, পরিবারের সদস্য, তাঁদের পেশা এবং প্রতিবেশীদের পরিচয় সম্পর্কে বিচারক পুঙ্খানুপুঙ্খ জানতে চেয়েছিলেন।
এমনকি এজলাসে উপস্থিত তাঁর স্ত্রী তওফা বিবি ও কন্যা কুলসুম বেগমের পরিচয়ও বিচারক নিজে যাচাই করেন। জলিল আখতার বিচারকের সমস্ত প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দেন এবং পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় নথি পেশ করার পর আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করে।আরও পড়ুন:
জলিল আখতারের আইনজীবী সাহিদ রেজা জানান, অত্যন্ত জটিল আইনি লড়াইয়ের পর এই জামিন পাওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন জলিলের মাসতুতো ভাই মতিউর রহমান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অকারণে একটি পরিবারকে চরম বিপদে ফেলা হলো। অন্যদিকে, ভোটাধিকার সুরক্ষা সমন্বয় সমিতির পক্ষে দুলাল রাজবংশী অভিযোগ করেন যে, বৈধ ভারতীয় নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও জলিল আখতারকে বারবার বাংলাদেশে পুশব্যাকের চক্রান্ত করা হয়েছিল। তাঁদের দাবি, লাগাতার আন্দোলনের চাপে পড়ে প্রশাসন পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং মুখ বাঁচাতে অনুপ্রবেশের মামলা সাজায়।