পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: আইনি চ্যালেঞ্জের সুযোগ না দিয়ে এক মুসলিম মহিলাকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করেছিল হিমন্তের সরকার। সেই ঘটনায় এবার অসম সরকারকে ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিল গুয়াহাটি হাইকোর্ট। ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল দ্বারা 'বিদেশি' ঘোষিত এক মুসলিম মহিলাকে তাঁর রায়কে চ্যালেঞ্জ করার কোনো সুযোগ না দিয়েই বাংলাদেশে বিতাড়িত করার ঘটনায় বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরাণা এবং বিচারপতি সুস্মিতা ফুকন খাউন্ডের সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দেয়।

নগাঁও ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল যেভাবে মমতাজ বেগমের মামলাটি পরিচালনা করেছে, তা নিয়ে হাইকোর্ট গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ট্রাইব্যুনালের এই পদক্ষেপে ‘আইনের প্রতি বিদ্বেষের উপাদান’ নথিতে স্পষ্টভাবেই প্রতীয়মান।

প্রসঙ্গত, এর আগে হাইকোর্ট ট্রাইব্যুনালকে মমতাজ বেগমের মামলাটি পুনর্বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছিল। হাইকোর্ট তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল, ট্রাইব্যুনাল উক্ত মহিলার জমা দেওয়া সমস্ত প্রমাণ বিবেচনা করতে ব্যর্থ হয়েছিল। তা সত্ত্বেও গত ৩০ মে নগাঁও এফটি-র সামনে হাজির হলে তাঁকে পুনরায় 'বিদেশি' ঘোষণা করা হয়।

বিতাড়িত মহিলা মমতাজ বেগমের স্বামী মুজাম্মেল হকের দায়ের করা একটি হেবিয়াস কর্পাস পিটিশনের শুনানিতে আদালত তার আদেশে জানায়, আটক মহিলাকে ভারত থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে তাঁর স্বামী বা পরিবারের কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকে আটকের বিষয়ে কোনোপ্রকার তথ্য না দিয়েই। এই পদক্ষেপের ফলে একটি অন্তর্বর্তীকালীন উপশমমূলক ব্যবস্থা হিসেবে আদালত অসম সরকারকে আবেদনকারী স্বামীকে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছে। এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এবং আইনি স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশ্যে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে হাইকোর্ট।