উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায় : ফের বড়সড় সাফল্য সুন্দরবন পুলিশ জেলার পাথরপ্রতিমা থানার। রামগঙ্গা বিডিও অফিসের পাশেই ‘সুইটি’ ও ‘টাইটানিক’ নামে দুটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে আট জন মহিলাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার তাঁদের কাকদ্বীপ মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। পাশাপাশি দুই হোটেলের মালিক, ম্যানেজার সহ অন্যান্যদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই রামগঙ্গা এলাকার ওই দুই আবাসিক হোটেলে মহিলাদের রেখে অনৈতিক কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগ উঠছিল। স্থানীয় সূত্রেও হোটেল দুটিকে ঘিরে নানা অভিযোগ পুলিশের কাছে পৌঁছেছিল বলে জানা গিয়েছে।

বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে বেশ কিছুদিন ধরেই গোপনে নজরদারি চালাচ্ছিল পাথরপ্রতিমা থানার পুলিশ।
অবশেষে নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাতে ওই দুই হোটেলে অভিযান চালায় পুলিশ। তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে আট জন মহিলাকে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত, সেই বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।পুলিশের অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে পৌঁছন পাথরপ্রতিমা ব্লকের বিজেপির একাধিক নেতাকর্মী।
অভিযোগ, সেখানে হোটেলের ম্যানেজার ও কর্মীদের সঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বের বচসা শুরু হয়। পরে সেই বচসা হাতাহাতি ও মারামারিতে গড়ায় বলে অভিযোগ।বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, হোটেল মালিকদের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন তাঁদের উপর হামলা চালায়। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুলিশ পুরো ঘটনারও তদন্ত করছে বলে জানা গিয়েছে।এদিকে পুলিশি অভিযানের খবর পেয়ে হোটেলের ম্যানেজার সহ কয়েকজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
তাঁদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছেপাশাপাশি হোটেল দুটির মালিকানা, পরিচালনার পদ্ধতি এবং সেখানে কী ধরনের কার্যকলাপ চলছিল, সেই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
উল্লেখ্য, পাথরপ্রতিমা ব্লকের রামগঙ্গা ও পাথরপ্রতিমা এলাকায় একাধিক আবাসিক হোটেল রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অধিকাংশ হোটেল নিয়ম মেনে রেজিস্টার সংরক্ষণ করে ব্যবসা পরিচালনা করলেও ‘সুইটি’ ও ‘টাইটানিক’হোটেলকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ ছিল। পুলিশের এই অভিযানের পর এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।
তবে ওই দুই হোটেলে ঠিক কী ধরনের কার্যকলাপ চলছিল, উদ্ধার হওয়া মহিলাদের সেখানে কীভাবে রাখা হয়েছিল এবং এই ঘটনার সঙ্গে আরও কারা জড়িত—তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পাথরপ্রতিমা থানার পুলিশ।