আরও পড়ুন:
পুবের কলম প্রতিবেদক: আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর রাজ্য বিধানসভায় স্বল্পকালীন বিশেষ অধিবেশন বসতে চলেছে। এই অধিবেশনে অন্যান্য বিষয় নিয়ে যা চর্চা হচ্ছে, তার থেকে রাজ্যবাসীর নজর ট্রেজারি বেঞ্চে থাকা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আসনটিকে নিয়েই। ২০১১ সালে পালাবদলের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর ঠিক পরের আসনটিতেই এযাবৎকাল বসে আসছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু এবার বিধানসভা অধিবেশন শুরু হতে চলেছে অথচ সেখানে প্রাক্তন পরিষদীয়মন্ত্রী বা বাম আমলে বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব সামলানো মুখ পার্থ চট্টোপাধ্যায় অনুপস্থিত। এখন আবার তিনি মন্ত্রী নন। স্বাভাবিকভাবেই ট্রেজারি বেঞ্চে তাঁর বসার কোনও অনুমতি নেই। বিধানসভা সূত্রে খবর, আসন্ন অধিবেশনে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সিটেই বসবেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম।
বিধানসভার তরফ থেকে অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে বর্তমানে পরিষদীয়মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে ওই আসনটি নেওয়ার জন্য অনুরোধ করলেও তিনি ওই আসনে বসতে অস্বীকার করেছেন। অতীতে একাধিকবার সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি বলেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে হাত ধরে রাজনীতিতে এনেছিলেন তিনি। তাই প্রাক্তন পরিষদীয় মন্ত্রীকে নিয়ে তার একটা দুর্বলতা রয়েছে। মনে করা হচ্ছে সে কারণেই তিনি ওই আসনটিতে বসতে চাননি। একইভাবে রাজ্য বিধানসভায় এতদিন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জন্য বরাদ্দ ঘরটিও এই মুহূর্তে তালাবন্ধই রাখা হবে বলে বিধানসভা সূত্রে খবর। যেহেতু এখনও ™র্যন্ত পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে তাই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল ইডি বা সিবিআই প্রয়োজন পড়লে তথ্য বা নথির স্বার্থে যাতে পার্থবাবুর পুরনো ঘরে গিয়ে তল্লাশি করতে পারেন। সেই জন্যই এটিকে আপাতত কাউকে দেওয়া হচ্ছে না বলে খবর।আরও পড়ুন:
তবে সিটের ক্ষেত্রে পরিষদীয় মন্ত্রীকেই ওই আসনটি দেওয়ার কথা। শোভনেদব চট্টোপাধ্যায় সেক্ষেত্রে রাজি না হওয়ায় আপাতত ঠিক হয়েছে ফিরহাদ হাকিম পার্থবাবুর আসনে বসবেন। তার ঠিক পাসের আসনে বসবেন মলয় ঘটক এবং অরূপ বিশ্বাস। আর আগে যে আসনটিতে ফিরহাদ হাকিম বসতেন সেখানে এবার থেকে বসবেন ব্রাত্য বসু। ফলে এবার বিধানসভা অধিবেশনে বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর আসন বদল লক্ষ্য করা যেতে পারে। যেমন এবার সরাসরি ট্রেজারি বেঞ্চে চলে আসবেন স্নেহাশীষ চক্রবর্তী ও প্রদীপ মজুমদারেরা। যতদূর খবর, মুখ্যমন্ত্রীর সামনের সারিতেই তাদের বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ আসন পেতে পারেন শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো মন্ত্রীরা।আরও পড়ুন:
এবার এই স্বল্পকালীন অধিবেশন রাজনৈতিক দিক থেকেও খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। ২০১১ সাল থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের শাসন থাকলেও এভাবে ঘরে-বাইরে দুর্নীতির অভিযোগে কখনও বিদ্ধ হতে হয়নি শাসকদলকে। নারোদা বা সারদা কাণ্ডের সময় অভিযোগ ছিল মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে। কয়েকজন মন্ত্রীকে জেলেও যেতে হয়েছিল। কিন্তু সরকারকে এভাবে চাপে পড়তে হয়নি। এবার সিবিআই এবং ইডির সাঁড়াশি আক্রমণের সামনে বেশ অস্বস্তিতে রাজ্যের শাসকদল। যেভাবে এই সরকারের মন্ত্রীর বান্ধবীর বাড়ি থেকে টাকার পাহাড় উদ্ধার হয়েছে, তাতে কিছুটা হলেও বিরোধী আক্রমণে বিব্রত শাসকদল। ফলে ১৪ তারিখ থেকে শুরু হওয়া বিধানসভা অধিবেশনে বিরোধীদের অবস্থান কি হবে সেটাও এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।