পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রেজিনগর বিধানসভার উপনির্বাচন সংখ্যালঘুদের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকার ‘শেষ সুযোগ’ বলে মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রায় ৭০ শতাংশ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই কেন্দ্রে বিপুল ব্যবধানে বিজেপি জিতবে দাবি করে তিনি বলেন, বিজেপি ভোট করতে ও করাতে— দুটোই জানে। তাই সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকার জন্য সংখ্যালঘুদের কাছে এটাই শেষ সুযোগ। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই বিরোধীরা সরব হয়ে অভিযোগ তুলেছে, ভোট পেতে নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়কে ভয় দেখাচ্ছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।


মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তার কড়া সমালোচনা করেছে বিরোধী শিবির। ঋতব্রত-তৃণমূলের বিধায়ক আখরুজ্জামান বলেন, মুখ্যমন্ত্রী সবার প্রতিনিধি; একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে এমন হুমকিমূলক বার্তা দেওয়া কাম্য নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজ্যের যে ৫৪ শতাংশ মানুষ বিজেপিকে ভোট দেননি, তবে কি সরকার তাঁদের জন্য কাজ করবে না? অন্য দিকে, রেজিনগরে ঋতব্রত-তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন এনসিপিআই সাংসদ আবু তাহেরের ভাগ্নে শফিউজ্জামান শেখ।
আবু তাহের জানান, শফিউজ্জামান বা কালীঘাট শিবিরের রবিউল চৌধুরী— প্রত্যেকেই জেতার জন্যই মাঠে নেমেছেন।
কালীঘাট-তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষের দাবি, ভয়ের কারণেই মুখ্যমন্ত্রী এমন কথা বলছেন। জেতার পরিস্থিতি না থাকায় রেজিনগরে মাঝরাতে পুলিশ পাঠানো এবং পুরনো মামলায় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও মুখ্যমন্ত্রীর ‘শেষ সুযোগ’ মন্তব্যকে অগণতান্ত্রিক বলে কটাক্ষ করেন। পাশাপাশি, সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রানা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হয়ে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু ভেদাভেদ করা উচিত নয়। এর মাঝেই রেজিনগরে প্রার্থী না দেওয়া প্রসঙ্গে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি অভিযোগ তোলেন, বামফ্রন্টের সঙ্গে আসন সমঝোতার কথা থাকলেও কোনও আলোচনা ছাড়াই সিপিএম একতরফাভাবে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে দিয়েছে।