পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: কর্নাটক সরকারের সরকারি অনুষ্ঠানগুলোতে জাতীয় গান 'বন্দে মাতরম'-এর প্রথম দুই স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই বিতর্কের মধ্যে বিজেপি নেতাদের পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা প্রিয়ঙ্ক খড়গে। তিনি বিজেপি নেতাদের সবকটি স্তবক মুখস্থ গেয়ে শোনানোর জন্য প্রকাশ্য অনাহ্বান জানিয়েছেন।
এক জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় প্রিয়ঙ্ক খড়গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বি ওয়াই বিজয়েন্দ্র এবং বর্ষীয়ান নেতা আর অশোককে চ্যালেঞ্জ জানান। তিনি বলেন, "কাগজে না দেখে বা টেলিক্রম্পটার ব্যবহার না করে বিজেপি নেতারা বন্দে মাতরমের সবকটি স্তবক গেয়ে দেখান।

যদি তারা তা করতে পারেন, তবে আমি অবিলম্বে পদত্যাগ করব।"
 
কংগ্রেস নেতা এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপিকে নিশানা করে ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "আমাদের পূর্বসূরিরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে বন্দে মাতরমের কেবল দুটি স্তবকই গাওয়া হবে। এখন বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী মোদী সবকটি স্তবক গাওয়াইতে চাইছেন। তারা কি জওহরলাল নেহেরু, সুভাষচন্দ্র বসু কিংবা নোবেলজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চেয়েও বড় হয়ে গেছেন?
"
 
চলতি বছরের জানুয়ারিতে বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি নির্দেশিকা জারি করে। তাতে বলা হয়, জাতীয় সংগীত 'জন গণ মন'-র আগে বন্দে মাতরমের ছয়টি স্তবকই গাইতে হবে। অন্যদিকে, কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি ১৯৩৭ সালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলীয় বা সরকারি স্তরে জাতীয় গানের প্রথম দুটি স্তবক গাওয়ার নীতিতেই অবিচল থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
 
কর্নাটক সরকারের কেবল প্রথম দুটি স্তবক গাওয়ার আদেশকে বিজেপির পক্ষ থেকে "তুষ্টিকরণের রাজনীতি" বলে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।
 
রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মঙ্গলবার কর্নাটক হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনজীবী গিরিশ ভরদ্বাজের দায়ের করা এই আবেদনে কর্ণাটক সরকারের নির্দেশিকাকে কেন্দ্র সরকারের আদেশের পরিপন্থী বলে দাবি করা হয়েছে।