উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায় :গণেশ পুজোকে ঘিরে অভিনব আয়োজন জয়নগরে। পুজোমণ্ডপে গণেশ মূর্তির পাশাপাশি দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের পোস্টার তুলে ধরে নজর কাড়লো ফুটিগোদার একটি পরিবার। পুজোকে কেন্দ্র করে সাজানো এই পোস্টার ও প্রচারসামগ্রী দেখতে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও ভিড় জমে।জয়নগর বিধানসভার বকুলতলা থানার অন্তর্গত ফুটিগোদা গ্রাম পঞ্চায়েতের ফুটিগোদা কায়স্থপাড়ায় গত প্রায় দশ বছর ধরে নিজের বাড়ির মন্দিরে গণেশ পুজো করে আসছেন মনোজ কুমার দও ও তাঁর পরিবার।

প্রতিদিনই সেখানে গণেশের পুজো হয়। তবে গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে প্রতি বছর বিশেষ আয়োজন করা হয়। এবছরও ধর্মীয় রীতি মেনে হোম-যজ্ঞের মাধ্যমে পুজোর সমাপ্তি হয়।পুজোর উদ্যোক্তা মনোজ কুমার দও জানান, তাঁর বাড়ির মন্দিরে থাকা একটি বিরল ছোট ধাতব গণেশ মূর্তির নিয়মিত পুজো করা হয়।
গণেশ চতুর্থীতে সেই মূর্তির পাশাপাশি মাটির গণেশ মূর্তিরও পুজোর আয়োজন করা হয়।তাঁর দাবি, প্রতিবছরই পুজোর সাজসজ্জায় কোনও না কোনও বিশেষ বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করেন তাঁরা। গত বছর ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-কে কেন্দ্র করে সাজসজ্জা করা হয়েছিল। এবছর তাঁর বাড়ির গণেশ পুজোয় ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’এর বিভিন্ন কাজ ও সরকারি প্রকল্পকে কেন্দ্র করে একাধিক পোস্টার প্রদর্শন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

পোস্টার গুলিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি ব্যবহারের পাশাপাশি অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত-সহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের উল্লেখ করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সরকারি তথ্য অনুযায়ী,অন্নপূর্ণা যোজনায় যোগ্য মহিলাদের মাসিক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। একইসঙ্গে ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে আয়ুষ্মান ভারত,পি এম যোজনা কার্যকর হয়েছে।মনোজ কুমার দও বলেন, ‘‘গণেশ পুজোর সঙ্গে প্রতি বছরই আমরা একটি নির্দিষ্ট বিষয়কে তুলে ধরার চেষ্টা করি। এবছর সরকারের বিভিন্ন কাজ ও প্রকল্পকে পোস্টারের মাধ্যমে মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।’’ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এভাবে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ছবি দিয়ে সাজানো গণেশ পুজো দেখতে আশপাশের এলাকা থেকেও বহু মানুষ ভিড় করেন। ফলে ফুটিগোদার এই পারিবারিক গণেশ পুজো স্থানীয়দের কাছে এবছর বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।